শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পুরোটাই যৌক্তিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পুরোটাই যৌক্তিক

করোনা মহামারীর মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুরোটাই যৌক্তিক বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, এটা শুধু এ দেশে বাড়েনি, সারা বিশ্বেই বেড়েছে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। করোনার কারণে এমনটা হয়েছে। তেলবাহী জাহাজগুলো এক দেশ থেকে আরেক দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই কোয়ারেন্টাইন খাটতে হয়। এতে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়। যার ফলে দাম বেড়ে যায়। মন্ত্রী গতকাল পার্চেজ কমিটি সভা শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা মহামারীর মধ্যে সাধারণ মানুষ প্রচন্ড কষ্টে আছে- বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, চাকরি হারিয়েছে, পণ্যের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে ডিজেলের দাম বাড়ায় ট্রাক, বাস, লঞ্চসহ নানা জায়গায় ভাড়া বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সব ধরনের পরিবহন খরচ। অথচ গত সাত বছর ধরে বিপিসি ৪৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আর এখন ভর্তুকি না দিয়েই দাম বাড়ানো হলো-এটা কতটা যৌক্তিক? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরোটাই যৌক্তিক। তবে সরকার কখনোই রাফলি দাম বাড়ায় না। জনগণের কথা মাথায় রেখেই দাম বাড়ানো হয়। তবে অনেক সময় সেটা না করলে সরকারের আয় কমে যায়। সরকার তো টাকা প্রিন্ট করে না। আয় করেই ব্যয় করে। ফলে রাজস্ব আয় করতেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এটা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভালো দিক দেখবেন না, তেলের দাম কি আমরা বাড়িয়েছি? আমাদের সরকার বাড়িয়েছে? কোনো জাহাজে যদি করোনা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায় তাহলে সেই জাহাজ কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই যে জাহাজ চলতে পারে না, মাসের পর মাস সাগরে আটকে আছে; সেই চার্জ শিপিং কোম্পানিকে করা হয়। চার্জগুলো সব একত্র হয়ে পুরো চার্জটা আমরা পাই।

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ পড়বে, এর কোনো বিকল্প ছিল কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বীকার করি। যখন দাম কমে আমরা দাম কমাই, যখন বাড়ে বাড়াই। এখন কী পরিমাণ দাম বেড়েছে সেটা জানেন? আগামী মিটিংয়ে আমরা আপনাদের জানাব গত দুই বছর কী পরিমাণ বেড়েছে? আমরা কতটা বাড়িয়েছি। আপনারা তাহলে বুঝতে পারবেন সরকার কতটা বহন করতে পারে। যারা ভোক্তা, কিছুটা তাদের বহন করতে হবে। আপনাদের বুঝতে হবে এখনকার দাম কত। বাকিটা সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি ৪৩ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে, কিন্তু জ্বালানির দাম কমেনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার টাকা নিয়ে কী করবে? এই যে সেফটিনেট (সামাজিক নিরাপত্তা) প্রকল্পগুলো আছে, এগুলো তো সরকার টাকা প্রিন্ট করে চালাচ্ছে না। সরকারকে টাকা আয় করে চালাতে হয়। এগুলো তো শেয়ার করতে হয়। তারপরও সরকার যতটুকু পারে শেয়ারিং করে। সামান্য যেটা না হলে নয় সেটা ভোক্তার ওপর দিই।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির হিসাবে ১০ শতাংশ ভাড়া বাড়ার কথা থাকলেও ২৭ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সিপিডির বক্তব্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আমাকে দেখতে হবে। আমি দেখে জবাব দেব। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। তাদের খরচ কত, চার্জ কত করেছে সেটি আলোচনা করে জানাব।

জ্বালানি ও বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আগে আমাকে জানতে হবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ। আমি যদি দেখি কোনো ভিত্তি ছাড়া দাম বাড়ানো হয়েছে, সেটা বিবেচনা করার অবশ্যই সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম যখন আন্তর্জাতিক বাজারে কম ছিল সেই সুবিধা কি আমরা সবাই পাইনি? সবাই সুবিধা পেয়েছে। এখন দাম বেড়েছে, কী পরিমাণ বেড়েছে নেটে গেলে পাবেন। আমরা তেল উৎপাদন করি না, আমরা ভোক্তা। আমরা রিসিভিং করি, আমাদের এখানে হাত দেওয়াও সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করব যে পরিমাণ বাড়বে সে পরিমাণ যেন আমাদের ভোক্তারা সহ্য করতে পারেন সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা হবে। আমি একজন নাগরিক ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি বলছি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জনসাধারণের জন্য সহনীয় কিনা-সে বিষয়টাও দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবেও আমার দায়িত্ব আছে। আমাকে রাজস্বের জোগান দিতে হয়। রাজস্ব জোগান দিতে না পারলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। আমরা পিছিয়ে যাব, আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না। আমরা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কাজটি করব। আমরা শেয়ার করব, যতক্ষণ পারবে সরকার বহন করবে। সরকার বহন না করতে পারলে আপনারা জানতে পারবেন।

পিপিপি প্রকল্প থেকে শান্তিনগর ঝিলমিল ফ্লাইওভার বাদ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা এখন আর প্রয়োজন নেই। এটার অন্য কোনো আদলে করা যায় কিনা-সে বিষয়টা আবার পর্যালোচনা করা হবে।

সর্বশেষ খবর