শিরোনাম
বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

জুয়েলারি শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে

আহমেদ আকবর সোবহান

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুয়েলারি শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুসের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর ও সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়ালা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে একটা গোল্ড ব্যাংক দরকার। দারুণ একটা আইকনিক চিন্তা থেকে এটা এসেছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশের যারা স্বর্ণকার, স্বর্ণশিল্পী যারা, তাদের হাতের কাজ অনেক সুন্দর। একসময় মসলিন যেমন বিখ্যাত ছিল। সেদিন সংসদে এটাও আলোচনা হয়েছে যে, বাংলাদেশে যারা স্বর্ণের কাজ করেন তাদের হাত অনেক সুন্দর, যা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও খ্যাতি লাভ করা সম্ভব। এই একটা শিল্পে সত্যিকারের ভ্যালু অ্যাডেড অনেক অনেক বেশি টাকা। অল্প একটু সোনা গেলেই তো লাখ লাখ টাকা। ভ্যালু অ্যাডেড জিনিস আছে এটাতে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। অসংখ্য  হাতের কাজ করার মানুষ রয়েছেন, যারা শত শত বছর ধরে উত্তরাধিকারসূত্রে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমাদের ভালো একটা স্কোপ রয়েছে।’ গতকাল বিকালে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল-১৯-এ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুসের নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দেশবরেণ্য শিল্পোদ্যোক্তা ও দেশের শীর্ষ শিল্পপরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। সভাপতিত্ব করেন বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর। সঞ্চালনা করেন বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়ালা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হাতের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাবে। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের যে যোগ্যতা তা দিয়ে সফল হব। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আপনাদের মুখ উজ্জ্বল হোক। বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর একটা কথা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে। কিন্তু এ মুহূর্তে আমরা বসতে পারছি না। কিন্তু কাগজপত্র আমরা যে কোনোভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে পারি। এরপর যখন সময় হবে, সুদিন ফিরবে সবাই সবার সামনে বসতে পারব। তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসব। বললেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন।’

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির আমলে প্রথম গোল্ড রিফাইনারির অনুমোদন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী সৃষ্টি। টিপু মুনশির মতো একজন ব্যবসায়ী বাণিজ্যমন্ত্রী না হলে কারও মাথায় আসত না যে দেশে একটি গোল্ড রিফাইনারি দরকার। আমি মনে করি দেশের ঘরে ঘরে রিফাইনারি হবে। বাংলাদেশের স্বর্ণশিল্পীরা পৃথিবীর মধ্যে বিখ্যাত। পুরো ভারতবর্ষে বাংলাদেশের স্বর্ণশিল্পীরা কাজ করেন। আমাদের জুয়েলারি শিল্প দিয়ে গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যেতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শুধু চীন ও ইউরোপে এক্সপোর্ট করি, আমাদের টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। গার্মেন্টসের দাম কম, স্বর্ণের প্রচুর দাম। এটার ভ্যালু অ্যাডিশন প্রচুর। কিছু কিছু স্বর্ণের ভ্যালু অ্যাডিশন ৩০, ৪০ ও ৫০ শতাংশ, যেখানে আমাদের গার্মেন্টসের ভ্যালু অ্যাডিশন ৫, ৭ ও ৮ শতাংশ।’

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠার পর এখন থেকে রপ্তানি করেন। সবার ঘরে ঘরে ইন্ডাস্ট্রি করেন। আগামীতে বাংলাদেশ গর্ব করে বলতে পারবে, পৃথিবীতে বাংলাদেশেও একটি গোল্ড রিফাইনারি আছে। ইটস এ প্রেস্টিজ। আমি মনে করি গোল্ড রিফাইনারি যুগান্তকারী।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে বাংলাদেশে গোল্ড এক্সচেঞ্জ দরকার, গোল্ড ব্যাংক দরকার। আমি নিশ্চিত বাণিজ্যমন্ত্রীসহ জুয়েলার্স মালিকরা যখন বলবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী এক সেকেন্ডও দেরি করবেন না। হবে না কেন, সবকিছুর ব্যাংক রয়েছে। গোল্ড ব্যাংক কেন হবে না। গোল্ড এক্সচেঞ্জ কেন হবে না। আপনারা শুধু প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করেন।’

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘আমরা জুয়েলারি সেক্টরে আরও উন্নতি করতে চাই। আমি বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। জুয়েলারি শিল্পে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি যৌথ মিটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী থাকলে জুয়েলারি ভাইদের যত সমস্যা আছে বসে সমাধান করতে পারব। সমস্যা শুধু একটা নয়, সমস্যা অনেক আছে। একটা সময় মানুষ স্বর্ণ বন্ধক রেখে ঋণ নিতে পারত। ১৯৮০ সাল থেকে এ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটার জন্য ভালো একটা পলিসি দরকার।’ বাজুস সভাপতি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, বাজুসের মাধ্যমে একটি গোল্ড ব্যাংক বা গোল্ড এক্সচেঞ্জ পলিসি করা হোক। আজকে পেপার-পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালান ও পাচার হচ্ছে। এগুলো আসলে কতটুকু সত্য। সত্যটা হয়তো আমরা আসলেই লুকিয়ে গেছি। লুকিয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে পরিকল্পিত কোনো নির্দেশনা নেই আমাদের। নির্দেশনার জন্য একটি ইনস্টিটিউট দরকার, যেখানে প্রতিদিন দাম নির্ধারণ হবে। গোল্ড ব্যাংক দরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা দরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা দরকার। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে এই সেক্টরের উন্নতি করা সম্ভব নয়।’

সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘এই সেক্টরের উন্নতির জন্য আমাদের জুয়েলারি ভাইদের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা সবাই আস্তে আস্তে জুয়েলারি ফ্যাক্টরির দিকে নজর দিন। সবাই ট্রেডিং করেছেন, এখন ইন্ডাস্ট্রি করার সময় এসেছে। আমরা শুধু আমদানি করব কেন, রপ্তানির দিকেও যেতে হবে। আমি যখন ভারতে গেলাম সেখানে প্রচুর বাঙালি ওয়ার্কার দেখলাম। তারা আমাকে বললেন, স্যার, বাংলাদেশে একটা ফ্যাক্টরি করেন, যেখানে আমরা এসে কাজ করতে পারি। কারণ কেউ বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চায় না, যদি বাংলাদেশে এই কাজ থাকে। আমরা আশা করব আপনারা সবাই একটা একটা করে ইন্ডাস্ট্রি করার পরিকল্পনা করেন। আমদানির চিন্তা না করে রপ্তানি করে দেশকে সমৃদ্ধিশালী করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শক্তিশালী করেন।’

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ আগারওয়ালা বলেন, ‘বাজুসের প্রধান কার্যালয়টি ছিল ৫০০ বর্গফুটের। আজ তার আয়তন ১০ হাজার বর্গফুট। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীরের কল্যাণে। আমাদের বিশ্বাস তাঁর নেতৃত্বেই বাজুস অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

সর্বশেষ খবর