বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা
জামিন খারিজ করেন হাই কোর্ট

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মাস্টারমাইন্ড ফরিদপুরের বাবর

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের  ছোট ভাই খোন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার বলে মন্তব্য করেছেন হাই কোর্ট। গতকাল তার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। পরে বাবরের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান। শুনানিতে হাই কোর্ট বলেন, এ মামলায় সংঘটিত অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার মোহতেশাম। তিনি অন্য আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন ও পরামর্শদাতা ছিলেন। তার কারণে সরকার ও দেশের মানুষের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের আসামিকে জামিন দেব কেন? পরে আদালত তার আবেদন খারিজ করতে চাইলে ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করার আবেদন জানান বাবরের আইনজীবী।

বাবরের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তার চাঁদাবাজি করার কোনো দরকার নেই। তার শ্বশুর মন্ত্রী ছিলেন। পারিবারিকভাবে তারাও ধনী। তখন আদালত বলেন, যার আছে সেই তো করে। বাইরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। আদালত আরও বলেন, এজাহার ও চার্জশিট পর্যালোচনা করে দেখতে পারছি, আপনি (আসামি) একজন মন্ত্রীর ভাই। আপনার একটা লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দফতর নেই যেখানে আপনি টেন্ডারবাজি করেননি। তখন আইনজীবী মিজানুর বলেন, আমি (বাবর) মন্ত্রীর ভাই ঠিক আছে। আমি অপপ্রচারের শিকার। মিডিয়া দিয়ে বিচার করলে হবে না। আদালত বলেন, আপনি (বাবর) অপরাধী কি না সেটা তো বিচারে প্রমাণিত হবে। কিন্তু নথিতে প্রাথমিক অপরাধের উপাদান রয়েছে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, অর্থ পাচার তো একটা অর্গানাইজড ক্রাইম। এ অপরাধের পেছনে প্রধান হোতা হচ্ছেন বাবর। তার নেতৃত্বে এ সিন্ডিকেট চলেছে। তখন আদালত মামলার নথি দেখে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, তিনি তো মূল নেতৃত্বে। এরপর বাবরের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন হাই কোর্ট।

এর আগে গত ২৪ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক আসামি বাবরের জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন।

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন ফরিদপুরের বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০২১ সালের ৩ মার্চ এ মামলায় মোহতেশাম হোসেন বাবরসহ ১০ জনের নামে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বাকি অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস ফুয়াদ, সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, আশিকুর রহমান ফারহান, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী দিদার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম। পরে গত ৭ মার্চ রাতে বাবরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

 

 

সর্বশেষ খবর