গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তিনি কথা বলছেন এবং তরল খাবার খেতে পারছেন। ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নুরুল হক নুরের চিকিৎসা চলছে।
এদিকে নুরের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনীতিবিদরা উৎকণ্ঠিত। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনীতিবিদরা তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। রাজনীতিবিদরা বলছেন, টার্গেট করেই নুরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নুর সুস্থ হলে এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফোন করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টায় সরাসরি নুরের মোবাইল ফোনে কল করে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। হানিফ বলেন, ফোনে তাদের সভাপতির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নুরকে বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এ জঘন্য হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি দ্রুত নুরের আরোগ্য কামনা করেছেন।
এদিকে শনিবার রাতে নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর প্রতিনিধি পাঠান। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, নুরের ওপর হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, হামলার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি নুরের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নুর বর্তমানে কথা বলতে পারছেন এবং তরল খাবার গ্রহণ করছেন। তবে তাঁর নাক ও মুখের হাড় ভেঙে গেছে, চোখে আঘাত রয়েছে এবং মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। নুর বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হলেও এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। সর্বশেষ সিটি স্ক্যান পরীক্ষার রিপোর্ট আশাব্যঞ্জক এসেছে। যদিও নুর এখনো কিছুটা ট্রমায় আছেন, তবে চিকিৎসকরা বলছেন, তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। গতকাল দুপুরে নুরকে দেখতে হাসপাতালে যান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
দুপুরে হাসপাতালে যান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার দায় সরকারকেই নিতে হবে। বেলা ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরুল হককে দেখতে যান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সেখানে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
সুস্থ হয়ে মামলা করবে নুর : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সুস্থ হওয়ার পর হামলার ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। রাশেদ খান বলেন, ‘কতিপয় সেনাসদস্য মব করে নুরসহ অন্য নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সেনাসদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।’