শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৫৭
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:৩৪

তসলিমার নাগরিকত্ব নিয়ে ভুল তথ্য দিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

তসলিমার নাগরিকত্ব নিয়ে ভুল তথ্য দিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী
নির্মলা সীতারামন (বামে) ও তসলিমা নাসরিন।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বঞ্চনা, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব, সংবিধান বিরোধী— এমন হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভারতে সদ্য পাস হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)। সেই সব ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দিতে সরকার পক্ষেরও চেষ্টার ত্রুটি নেই।

নানা পরিসংখ্যান, নানা উদাহরণ তুলে ধরে প্রমাণের চেষ্টা চলছে, এই আইনে কোনও সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তৈরি হয়নি। কিন্তু তেমনই উদাহরণ দিতে গিয়ে বিপত্তি বাধালেন নির্মলা সীতারামন। নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে বলে আদনান সামি ও তসলিমা নাসরিনকে এক বন্ধনীতে বসিয়ে ফেললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

সীতারামন এই দাবি করলেও ঘটনা হল, জন্মসূত্রে পাকিস্তানি গায়ক আদনানকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে তা দেওয়া হয়নি। তাকে শুধুমাত্র ভারতে বসবাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সীতারামনের মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিজেপি।

রবিবার চেন্নাইয়ে সিএএ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নির্মলা সীতারামন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বিদেশিদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য-পরিংসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘“২০১৬ থেকে ২০১৮ এই দু’বছরে আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা ৩৯১ জন মুসলিমকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের শরণার্থী হিসেবে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৯৫ জনকে। এই সময়ের মধ্যেই আদনান সামিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা একটা উদাহরণ। অন্য উদাহরণ তসলিমা নাসরিনকে নাগরিকত্ব দেওয়া। এটাই প্রমাণ করে আমাদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে।”

তসলিমা নাসরিন জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি তার লেখালেখি ও উপন্যাসে ‘মুসলিম-বিরোধী’ মতবাদ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মৌলবাদীরা তার প্রাণনাশের হুমকি দেন। ফলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা। ‘নির্বাসিত’ তসলিমা সুইডেনের নাগরিকত্ব পান। পরে ভারতে বসবাসের আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে ২০০৪ সালে তাকে শুধুমাত্র ভারতে বসবাসের অনুমতি দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ নির্মলা সীতারামন এ দিন সেই দাবিই করেছেন। সূত্র: আনন্দবাজার

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য