শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মে, ২০২১ ২০:৫৬
প্রিন্ট করুন printer

অবশেষে ইসরায়েলে দূতাবাস স্থাপন করল আরব আমিরাত

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে ইসরায়েলে দূতাবাস স্থাপন করল আরব আমিরাত
Google News

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে দূতাবাস স্থাপন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দূতাবাসের উদ্বোধন করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম আরব দেশ, যারা ২৬ বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল। এর আগে ১৯৯৬ সালে জর্দান ‌‘ওয়াদি চুক্তি’র আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এরপর গত ২৬ বছরে কোনো আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেনি। যদিও তাদের অনেকে গোপনে বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

গত প্রায় আট মাস ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলে আসছিল। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আসা যাওয়া চলছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ আমিরাতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খাজাকে তেল আবিবে পাঠানো হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন সময় তেল আবিবে দূতাবাস উদ্বোধন করল যখন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর এ অঞ্চলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে।

সম্প্রতি গাজায় ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের ১২ দিন ধরে তুমুল যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধে ইসরায়েল এত বেশি যুদ্ধাপরাধ করেছে যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে। ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত টু শব্দটিও করেননি। বরং যুদ্ধ বিরতির আট দিন পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে তেলআবিবে দূতাবাস উদ্বোধন করল। আমিরাতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল খাজা ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল থেকে আমিরাতে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ বিরতির পর আবারও তিনি তেলআবিব ফিরে গেছেন এবং ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের মাত্রা এত বেশি ছিল যে, সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে রিয়াদের গোপন সম্পর্ক বজায় থাকলেও এ মুহূর্তে এ সম্পর্ক আরও উন্নয়নের বিষয়টিকে প্রকাশ্যে আনা থেকেও সৌদি আরব বিরত থাকে। আরেকটি বিষয় হলো আমিরাত এমন সময় ইসরায়েলে দূতাবাস খুলেছে যখন ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ইসরায়েলে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড থেকে প্রমাণিত, এ দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্য আরব দেশগুলোর তুলনায় অগ্রগামী এমনকি তারা আরব পরিচিতিকেও আমলে নিচ্ছে না। এর ফলে দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণভাবে যেমন ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে তেমনি আরব বিশ্বেও তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।

সূত্র : পার্সটুডে 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

এই বিভাগের আরও খবর