শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ জুন, ২০২১ ১৩:০৭
প্রিন্ট করুন printer

যেসব কারণে ম্যাক্রোঁর ওপর ফরাসিদের এতো ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে ম্যাক্রোঁর ওপর ফরাসিদের এতো ক্ষোভ
এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফাইল ছবি
Google News

আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ছয় সপ্তাহের রাজনৈতিক সফর শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দ্রোম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় নীল টি-শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি হাত মেলানোর সময়ে ম্যাক্রোঁকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। 

এ নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তৃতীয়বারের মতো জনসম্মুখে হামলার স্বীকার হলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সমর্থক ভেবে প্রেসিডেন্ট হাত মেলাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ওই ব্যক্তি সোজা চড় বসিয়ে দেন তার গালে। এ সময় ওই ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছিল ‘ম্যাক্রোঁবাদ নিপাত যাক।’ ক্ষোভ আর বিদ্বেষের মাত্রা কতটুকু হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর দেশটির জনগণের এতো ক্ষোভের কারণ কি হতে পারে-

জানা যায়, জীবনযাত্রার নিম্নমান, দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, ওভার টাইম ও পেনশনের উপর কর বসানোর কারণে দেশটির মধ্যবিত্ত ফুঁসে উঠেছিলো প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ওপর। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘিতে আগুন দেওয়া হয় জ্বালানি তেলের ওপর পরিবেশ কর আরোপ করার সিদ্ধান্তে।

এর প্রতিবাদে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইয়েলো ভেস্ট বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন শুরু হয়। প্রতিবাদ–বিক্ষোভে ট্যাক্সিচালকদের ব্যবহৃত হলুদ জ্যাকেট পরে প্রতিবাদকারীরা অংশ নেওয়ায় এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন। ব্যাপক আন্দোলনের পরে অবশ্য গত ৪ ডিসেম্বর জ্বালানির ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরের বছর, ২০১৯ সালে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে ব্যাপক ভাঙচুর, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয় ফ্রান্সে। ওই দিন ম্যাক্রোঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ কমেনি। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হলে অর্থনীতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। ভুল অর্থনৈতিক নীতির জন্য ফরাসি অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। 

শুধু তাই নয়, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত বছর দেশে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, ৭৮ ভাগ ফরাসি মনে করে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আমলে ফ্রান্স পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ধনী শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে ম্যাঁক্রো যে অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যকার ব্যবধানকে বাড়িয়ে তুলছেন বিরোধীরা সেটিকে বলছে ‘ম্যাক্রোঁইজম’।

আর মূলত এই ম্যাক্রোঁইজমের বিরুদ্ধেই জনগণের যতো ক্ষোভ কাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট চড় মারার সময় হামলাকারী সেই ‘ম্যাক্রোঁবাদ নিপাত’ যাওয়ার স্লোগানই দিয়েছিল।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর