১ আগস্ট, ২০২১ ০৩:২৭

তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় বাড়ছে ইরান-ইসরায়েলের অঘোষিত ছায়া যুদ্ধ!

অনলাইন ডেস্ক

তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় বাড়ছে ইরান-ইসরায়েলের অঘোষিত ছায়া যুদ্ধ!

ইসরায়েল অভিযোগ তুলেছে যে, ইরান জড়িত রয়েছে আরব সাগরে তেল ট্যাংকারে হামলার পেছনে। এদিকে এ হামলার ঘটনায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে অঘোষিত ছায়া যুদ্ধ চলছে, সেটি আরও বেড়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাংক গার্ডনার। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ইরান ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এবং উভয়েই তা নাকচও করেছে। কিন্তু এই হামলায় উত্তেজনা বিশেষভাবে বাড়বে, কারণ এতে দুইজন মৃত্যু হয়েছে।

ওই হামলায় জাহাজের যেই দুইজন ক্রু নিহত হয়েছে তাদের একজন ব্রিটিশ, আরেকজন রোমানিয়ার নাগরিক। এমভি মার্সার স্ট্রিট নামের ওই জাহাজটি লন্ডন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যোডিয়াক ম্যারিটাইম পরিচালনা করে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার।

ওই জাহাজে বৃহস্পতিবার যখন হামলার ঘটনা ঘটে, তখন সেটি ওমান উপকূলের কাছাকাছি, আরব সাগরে ছিল। এই কম্পানির মালিক ইসরায়েলি ধনকুবের ইয়াল ওফের। তিনি বলেছেন, ‘আসলে কি ঘটেছে, সেটি জানার কাজ চলছে।’ তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ শুক্রবার অভিযোগ করেছেন, এটি ছিল 'ইরানি সন্ত্রাস'। 'ইরান শুধুমাত্র ইসরায়েলের সমস্যা নয়। বিশ্ব অবশ্যই নীরব থাকতে পারে না, বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন।

হামলা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী আর জাপান মালিকানাধীন এই তেলবাহী জাহাজে আসলে কি ঘটেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এসব অভিযোগের ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইরান। এই ঘটনা ওই এলাকার উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো কোনো তথ্যে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আসলে কি ঘটেছে, সেটি তারাও জানার চেষ্টা করছেন।

একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ট্যাংকারে যে ব্রিটিশ নাগরিক মারা গেছেন, তাদের প্রিয়জনের পাশে আমরা রয়েছি। নৌযানগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে দিতে হবে।

শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যোডিয়াক ম্যারিটাইম বলেছে, দুইজন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে আর কেউ আহত হয়নি বলেও তারা জানিয়েছে। কম্পানিটি জানিয়েছে, জাহাজটিকে এখন সেটির কর্মীরা পরিচালনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় সেটি নিরাপদ স্থানের দিকে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ম্যারিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওই ঘটনার ব্যাপারে তারা তদন্ত করতে শুরু করেছে। যৌথবাহিনী জাহাজটিকে সহায়তা করছে বলেও তারা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সেখানকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রেখেছে।

তানজানিয়ার দার এস সালাম থেকে রওনা হয়ে ভারত মহাসাগরের উত্তরভাগ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল জাহাজটি। যোডিয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় জাহাজটিতে কোন পণ্য ছিল না। এর আগেও এই এলাকায় ইরান ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে হতাহতের ঘটনা বিরল। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর