Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩০

তেরেসার খসড়া ফের প্রত্যাখ্যাত

ব্রেক্সিট চুক্তি

তেরেসার খসড়া ফের প্রত্যাখ্যাত

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আবার প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়াকে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট হতে চলেছে চুক্তিহীন। একই সঙ্গে ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়নোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলা যাবে আজকের পর। কারণ ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর প্রশ্নে সংসদে আবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা আজ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিকল্পের প্রশ্নে ব্রিটেনে ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে না। সোমবার রাতে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ শহরে প্রধানমন্ত্রী মে ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ ইয়ুংকার আইরিশ সীমান্তে বিতর্কিত ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন বোঝাপড়ার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এ সমঝোতার পর মঙ্গলবার রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তেরেসা মের চুক্তি এমপিদের কাছে ৩৯১-২৪২ ভোটে হেরে যায়। ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে চুক্তিটিই প্রত্যাখ্যান করলেন ব্রিটিশ এমপিরা। এদিকে ২১ ও ২২ মার্চ ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ বৈঠকে ব্রেক্সিট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। ব্রিটেন ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে ইইউ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি দেশও বিরোধিতা করলে ব্রিটেন ২৯ মার্চ চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

কী প্রভাব পড়তে পারে : তেরেসা মের প্রস্তাব দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে যাওয়ার পর, ব্রিটেনের অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে জানতে ব্রিটেনের সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক রোযেন আযাদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলা। তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে ব্রিটেন কোনো ডিল বা চুক্তি নিয়ে বেরোতে চায় কিনা তার ওপর।’ শিক্ষক আযাদ মনে করেন, পুরো বিষয়টা এখন নির্ভর করবে ইইউর ওপর। তিনি বলেন, সামনে ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচন। তারা হয়তো দুই বছরের জন্য সময় দেবে।

ব্রিটেনের সামনে এখন পথ কী? ১. চুক্তিহীন ব্রেক্সিট : ইইউ এখন কঠোর হলে যুক্তরাজ্যকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করতে হবে; যা আদতে দেশটির জন্য শুধু লোকসানই বয়ে আনবে। ২. খসড়ার ওপর আরেক দফা ভোট : তেরেসা মে দ্বিতীয় দফায় হেরে গেলেও সবচেয়ে সাদাসিধে উপায় হবে হয়তো হাউস অব কমন্সে তার খসড়া চুক্তিটি আরেক দফা ভোটাভুটিতে নিয়ে যাওয়া। ৩. পুনরায় আলোচনা : ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সরকার একেবারে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারে এবং তা হয়তো সময়সাপেক্ষ হবে। ৪. ফের গণভোট : অন্যথায় পুনরায় গণভোটের আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। নতুন করে গণভোটের জন্য আইনে নতুন সংযোজন প্রয়োজন হবে এবং কারা ভোটার হতে পারবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। ৫. সাধারণ নির্বাচন আহ্বান : তেরেসা মে এ অচলাবস্থা নিরসনে এবং তার চুক্তির বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন পেতে সবচেয়ে ভালো উপায় হিসেবে সাধারণ নির্বাচনের আহ্বান করতে পারেন। নির্বাচন আহ্বান করার ক্ষমতা তার নেই। সেজন্য দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। ৭. নো ব্রেক্সিট : ইউরোপীয় আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ব্রিটেন চাইলে এককভাবে ব্রেক্সিট বাতিল করতে পারবে।


আপনার মন্তব্য