শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০২১ ২৩:৪৮

হারের পর দলের নেতাদের তোপের মুখে বিজেপি, বাম

এবার বাম ও কংগ্রেস একটা আসনও পায়নি

Google News

‘পায়েল শ্রাবন্তী পার্নো ইত্যাদি ‘নগরীর নটিরা’ নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রের সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন), তাদের কে টিকিট দিয়েছিল? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাস-অরবিন্দ-শিবপ্রকাশ প্রভুরা কি আলোকপাত করবেন?’ এই টুইটটি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রবীণ সদস্য তথাগত রায়। বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের ওপর বেজায় চটেছেন। শুধু তিনি নয়, তার মতো অনেকেই নির্বাচনে পরাজয়ের পর নীতিনির্ধারকদের প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। 

যদিও পাঁচ বছর আগের তুলনায় বিজেপি এবার অনেক ভালো ফল করেছে। তিন থেকে তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৭। তা সত্ত্বেও দলে প্রশ্ন ওঠার বিরাম নেই।

তবে শুধু বিজেপি নয় সিপিএম, কংগ্রেসেরও একই অবস্থা।

বিজেপির মতো দলে সচরাচর কোনো নেতা এরকম প্রশ্ন তোলেন না। দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এরকম ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্নবাণ প্রকাশ্যে ছোড়েন না। কিন্তু তথাগত তাই করেছেন। তারপর তিনি টুইট করে বলেছেন, তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন। তবে এরপরও অদম্য তথাগত তার বক্তব্যে অনড়। তিনি বলছেন, ‘চার পালের গোদা রাজ্যে দলটা চালাচ্ছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে যা বলেন, তাই তারা শোনে।’ বিষয়টি নিয়ে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে কথা বলেছেন বিভিন্ন দলের নেতাদের কাছে। বিজেপির যুব নেতা সৌরভ সিকদার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘প্রার্থী বাছাই নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে।’ কেন এই ডামাডোল বিজেপিতে? প্রবীণ সাংবাদিক দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘এই ফলাফলের জন্য বিজেপি তৈরি ছিল না। হিন্দু ভোটের একটা অংশ তারা পেয়েছে। তারা অনেকটা এগিয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা লোকসভায় পাওয়া ভোট ধরে রাখতে পারেনি। হারের একটা ধাক্কা আছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এত নেতাকে তৃণমূল থেকে এনে প্রার্থী করা কি ঠিক হয়েছে?’ এবার বাম ও কংগ্রেস একটা আসনও পায়নি। গত ৭০ বছরে এরকম অবস্থা এই দুই দলের কখনো হয়নি। ফলাফল বেরোনোর পর প্রবীণ বাম নেতারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। পরপর তিনজন প্রবীণ নেতা দলের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। প্রথম প্রশ্ন তোলেন সাবেক বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। একটি টিভি চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘দলের এই ব্যর্থতার দায় নেতৃত্বের। লোকসভায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও সেই দায় কেউ নেননি। বিধানসভায় হারের পরও কেউ দায় নেবেন না।’ কংগ্রেসেও একই রকম প্রশ্ন উঠছে। সাবেক বিরোধী নেতা আবদুল মান্নান যেমন মনে করেন, অনেক আগে থেকে মুর্শিদাবাদ, মালদহে নতুন নেতাদের তুলে আনা দরকার ছিল। বারবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেও লাভ হয়নি। কংগ্রেসে তো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একদিকে যায়, রাজ্য নেতৃত্ব অন্যদিকে।

তার ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কংগ্রেসমুক্ত হয়ে গেল। এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কংগ্রেসের পক্ষে খুবই কঠিন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।