শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০২১ ২৩:৪৪

অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আরজি ব্রিটিশ লেবার পার্টির

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবরোধ দাবি

Google News

গাজায় ইসরায়েলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী লেবার দল। নেতারা ফিলিস্তিনের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্‌বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরোধী লেবার দলের সাবেক নেতা জেরেমি করবিন। তিনি হাউস অব কমন্সে জানতে চেয়েছেন ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্কের প্রকৃতি কী রকম। একই সঙ্গে জানতে চেয়েছেন ইসরায়েলের কাছে ব্রিটেন যেসব অস্ত্র বিক্রি করেছে গাজায় বোমা হামলায় তা ব্যবহার করা হয়েছে কি না। তার দলের অন্য নেতারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবরোধ দেওয়ার আহ্‌বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই ইসরায়েলের কাছে ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের এখনই উত্তম সময়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। উল্লেখ্য, ১১ দিনের যুদ্ধে নির্বিচারে গাজায় বোমা হামলা করে কমপক্ষে ২২৭ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। পক্ষান্তরে হামাসের রকেট হামলায় ১২ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাসের রকেট হামলার জবাবে তারা বিমান হামলা করেছে। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসলিমদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সংঘর্ষ, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে। একপর্যায়ে ইসরায়েল উন্মত্তের মতো বোমা হামলা শুরু করে গাজায়।

বৃহস্পতিবার এ যুদ্ধ বন্ধের আহ্‌বান জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি নেতানিয়াহু। তিনি হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় জেরেমি করবিন বলেছেন, ওই অঞ্চলজুড়ে মৃত্যুর ভয়াবহতা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানি এখন ভীতিকর পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। গাজায় যেসব ভবনকে টার্গেট করে বোমা হামলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের সরু এলাকায় যে বোমা হামলা হয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তা জঘন্য। এ সময় তিনি ফরেন অফিস মিনিস্টার জেমস ক্লেভারলির কাছে জানতে চান, মন্ত্রী কি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্কের ধরন ব্যাখ্যা করবেন এবং এ সহযোগিতা কী পর্যায়ে আছে। তিনি কি হাউস অব কমন্সে বলবেন, ইসরায়েলের কাছে ব্রিটেন যে অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করেছে সেগুলোই গাজায় বোমা হামলায় ব্যবহার হচ্ছে কি না?

জবাবে জেমস ক্লেভারলি বলেন, ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রির লাইসেন্স আছে। যেসব অস্ত্র বিক্রি করা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। এ সময় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেবারেল ডেমোক্র্যাট দলীয় এমপি লায়লা মোরান হাউস অব কমন্সে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ৬৩টি শিশুকে গাজায় হত্যা করা হয়েছে। এ কথা বলতে গিয়ে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন একটি যুদ্ধবিরতি।’