শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জুন, ২০২১ ০০:০৫

ফ্লোরিডায় ভবনধস জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলছে

ফ্লোরিডায় ভবনধস জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলছে
Google News

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১২ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের আংশিক ধসের ঘটনায় দুই দিন পরও নিখোঁজ ১৫৯ জনের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মায়ামি শহরের ব্যারিয়ার দ্বীপের সার্ফসাইড এলাকার চ্যামপ্লেইন টাওয়ার্স সাউথ নামের বহুতল ভবনটির বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। সিসি ক্যামেরায় ফুটেজে দেখা গেছে, ৪০ বছরের পুরনো ভবনটির এক পাশের পুরো অংশটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে একটি পর আরেকটি ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। এ ঘটনার সময় ওই ভবনটির অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভবনটিতে ১৩০টিরও বেশি ইউনিট ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮০টিতে তখন মানুষ ছিলেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে চারজন নিহত ও ১৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ ধসে পড়লেও কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল তা রহস্যই রয়ে গেছে।

গতকাল প্রতিটি ঘণ্টা পার হওয়ার সঙ্গে ভবনটির নিখোঁজ বাসিন্দাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তারপরও ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বংসস্তূপের ভিতরে জীবিতদের খোঁজে ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলগুলো। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বের হয়ে আসা চাপা আগুনের ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে আছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভবনের তলাগুলো ধসে পড়ে কেকের স্তরের মতো একটির ওপর আরেকটি স্তূপীকৃত হয়ে থাকায় নিশ্চিতভাবে ভিতরে চাপা পড়া অনেক মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, জানিয়েছে রয়টার্স।

কুকুর, ক্যামেরা, সোনার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের কোনো ফাঁকে শ্বাস ফেলার মতো কোনো জায়গায় কেউ বেঁচে আছেন কিনা তা খুঁজে দেখছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মায়ামি-ডেইড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা বলেছেন, ‘আমাদের আশা আছে, কারণ আমাদের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল বলেছে, তাদের আশা আছে।’

মিয়ামি-ডেইডের দমকল প্রধান অ্যালান কোমনিস্কি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান সারা রাত ধরে চলবে। ভবনটির বেঁচে যাওয়া বাসিন্দাদের হোটেলে রেখে খাবার ও অন্যান্য সহায়তার পাশাপাশি সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তল্লাশি ও উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা রোটেশন পদ্ধতিতে কাজ করছেন, আরও ধসের সম্ভাবনা এড়াতে একবারে তাদের অল্প কয়েকজনকে একসঙ্গে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লেভিন কাভা। প্রতিবেশী মেক্সিকো ও মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল থেকেও উদ্ধারকারী দল এসে যোগ দিয়েছে। এতে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের চাপ কিছুটা কমেছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিকের চাঙরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ি পার্কিং থেকে ভবনের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছেন উদ্ধারকারীরা, জীবিতদের খোঁজার সময় ধ্বংসস্তূপের টুকরা তাদের গায়ে পড়ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মায়ামি-ডেইড দমকলের উদ্ধারকারী দল প্রধান অ্যান্ডি আলভারেজ জানিয়েছেন, তাদের দল হাইতিতে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে আট দিন পর একটি বালিকাকে উদ্ধার করেছিল, তাই তারা আশা ছাড়ছেন না। ‘আপনাদের পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার জন্য আমাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করব আমরা। আপনারা আশা রাখতে পারেন,’ নিখোঁজ স্বজনদের বলেছেন আলভারেজ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালে নির্মিত এ ভবনটিতে সংস্কার কাজ চলছিল।