শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৪৪

কত টাকার মালিক তালেবান?

কত টাকার মালিক তালেবান?
পপি খেত
Google News

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করে তালেবান। সে সময় দলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান ছিলেন মোল্লা ওমর। তালেবান-শাসিত ইসলামী আমিরাতে আমিরুল মোমিনিন বলে মানা হতো তাকে। ছিলেন কট্টর ও উগ্র। তারপর মার্কিন আগ্রাসন। হারিয়ে যায় তালেবান। কিন্তু হারায়নি। আবার তারা আফগানিস্তানের গদিতে। সময়ের চাকা এগিয়ে গেছে প্রায় ২০ বছর। উগ্রবাদী, কট্টর মানসিকতায় কোনো বদল আসেনি বটে। জীবনযাত্রায় বদল আসেনি, তা তো নয়। এখনো আরও ঝকঝকে, স্মার্ট এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরা। রবিবার কাবুল দখল করে আফগান প্রশাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভবনে ঢুকে যেভাবে জিম করতে দেখা গেল তাদের তাতেই স্পষ্ট হয় শুধু উগ্রতাই নয়, আধুনিক জীবনযাপনেও হাত পাকাচ্ছে তারা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এসব ছাপিয়ে একটাই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে- এবার থেকে আফগানিস্তান শাসন করবে তালেবান, কিন্তু একটা আধুনিক সেনাবাহিনীকে পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখার মতো অর্থ তারা পেল কোথায়? উত্তর খুঁজতে গিয়ে চোখ প্রায় কপালে ওঠার জোগাড়। বছরে নাকি প্রায় ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) হাতে আসে তাদের।

২০১৬ সালে তালেবানের অর্থভান্ডার নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাতেই উঠে এসেছে চমকপ্রদ বেশ কয়েকটি তথ্য। এত দিন জানা ছিল মাদক পাচার, চাঁদাবাজি করেই নিজেদের খরচ জোগাড় করে নিজেরা। কিন্তু ২০১৬ সালের সমীক্ষা বলছে অন্য কথা। বিশ্বের ১০টি জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে সম্পদশালী হিসেবে তালেবানের স্থান পঞ্চম। শীর্ষে রয়েছে আইএস। তাদের বার্ষিক আয় ২ বিলিয়ন ডলার। আর তালেবানের বার্ষিক আয় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের আশপাশে। কী কী ভাবে তাদের অর্থ প্রাপ্তি ঘটে? ফোর্বসের সমীক্ষা বলছে, অন্তত ছয়টি পথে অর্থাগম হয় তাদের ভান্ডারে।

খননকাজ, মাদক পাচার, বিদেশি ত্রাণ, রপ্তানি, ট্যাক্স, রিয়েল এস্টেট- এ ছয়টি ক্ষেত্র থেকে অর্থ আসত। সবচেয়ে বেশি আয় হয় খননকাজ আর মাদক পাচার (হেরোইনের প্রধান উপাদান পপি ফুল সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় আফগানিস্তানে) থেকে। আর এ অর্থেই ফুলে ফেঁপে উঠেছে তালেবানের কোষাগার। তাতেই বদলেছে জীবনযাত্রা। পুরনো অস্ত্রের বদলে এখন তাদের হাতে ঝকঝকে পশ্চিমা অস্ত্র। পরনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকই তবে নতুন।

পুরনো আমলের গড়িয়ে গড়িয়ে চলা গাড়ি নয়, গোটা দেশে মসৃণ গতিতে চড়ে বেড়াচ্ছে তারা। সবচেয়ে বড় কথা, তারা এখন ভালোমন্দ খাওয়া-পরার পাচ্ছে। জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার জন্য যদি দারিদ্র্যকে দায়ী করা হয় তাহলে এখন যে সে প্রেক্ষাপট বদলেছে তা স্পষ্ট। তালেবানের অন্দরে আর দারিদ্র্য নেই। ধনী থেকে ধনীতর হচ্ছে।