শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

দিল্লি বিধানসভা থেকে লালকেল্লা পর্যন্ত গোপন সুড়ঙ্গ!

দিল্লি বিধানসভা থেকে লালকেল্লা পর্যন্ত গোপন সুড়ঙ্গ!

ভারতের রাজধানীতে মিলল গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান। চাঁদনী চকের লাল কেল্লা থেকে দিল্লির বিধানসভা পর্যন্ত গভীর সুড়ঙ্গ রয়েছে! যে সুড়ঙ্গের কথা বহু দিন থেকে শোনা গেলেও এত দিন তার হদিস কিছুতেই মিলছিল না। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সন্ধান মেলেনি। বৃহস্পতিবার খোঁজ মিলল সেই রহস্যময় সুড়ঙ্গের। দিল্লি বিধানসভা থেকে লাল কেল্লার দূরত্ব সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের কিছু বেশি। অনুমান, সুড়ঙ্গটিও ততটাই লম্বা হবে।

দিল্লি বিধানসভার স্পিকার রামনিবাস গোয়েল সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘আমি ১৯৯৩ সালে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলাম। সেই সময় থেকেই শুনে এসেছি এখানে একটা সুড়ঙ্গ রয়েছে, যেটা লালকেল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি তখন থেকে এই ইতিহাসকে খোঁজার চেষ্টা করছি। কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু জানতে পারিনি। এত দিনে সেই সুড়ঙ্গের মুখ খুঁজে পেয়েছি আমরা। তবে এটা আর খুঁড়ে দেখা হচ্ছে না। কেননা মেট্রো ও পয়ঃপ্রণালির কাজ হওয়ার দরুন সুড়ঙ্গের ভিতরের অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমরা এটা নতুন করে সাজিয়ে তুলব। আশা করি আগামী বছরের ১৫ আগস্টের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তারপর এটি সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার দিল্লি বিধানসভার একটি ঘরে প্রথম সুড়ঙ্গ-মুখটি দেখতে পাওয়া যায়। কৃত্রিম সবুজ ঘাসের কার্পেট কেটে উদ্ধার হয় সুড়ঙ্গের লোহার দরজা। সেটি সরাতেই দেখা মেলে ওই গভীর সুড়ঙ্গের। ইতিহাসবিদদের অনুমান, প্রায় ১০০ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল সুড়ঙ্গটি। দীর্ঘদিন কোনো রকম রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পড়ে থাকায় সুড়ঙ্গ পথটি কী অবস্থায় রয়েছে, বা সেটি আদৌ যাতায়াতের উপযুক্ত রয়েছে কি না, তা অনুমান করা যাচ্ছে না। দিল্লি বিধানসভার ওই সুড়ঙ্গ নিয়ে স্বভাবতই কৌতূহল জন্মেছে। কেন এই সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনাও চলছে। তবে ইতিহাসবিদরা এর সঙ্গে ব্রিটিশ-যোগ খুঁজে পেয়েছেন।

ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, ১৯১২ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল ভারতের রাজধানী। দিল্লি বিধানসভা ১৯২৬ সালে আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সম্ভবত তখনই এই সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিল। বন্দী বিপ্লবীদের আদালতে হাজিরার জন্য ব্রিটিশ সেনারা এই সুড়ঙ্গ পথই নাকি ব্যবহার করতেন। যার ফলে কোনো বন্দির পালানোর সুযোগও থাকত না। সুড়ঙ্গ পথে আবার বন্দীদের থাকার ঘরও রয়েছে বলে অনুমান ইতিহাসবিদেদের। যদিও সেই ঘর পর্যন্ত এখনো পৌঁছানো যায়নি। সবেমাত্র সুড়ঙ্গের মুখের সন্ধান মিলেছে।

দিল্লি বিধানসভার অধ্যক্ষ রামনিবাস গোয়েল জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরের কিছুটা যাওয়ার পর আর রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সুড়ঙ্গের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

দিল্লি বিধানসভার ওই ঘরে থাকা সুড়ঙ্গের সংকীর্ণ মুখ খুললেই প্রথমে চোখে পড়বে ৫ ফুট গভীর এবং ১৫ ফুট উঁচু একটি ঘর। সেই ঘর থেকেই সরু রাস্তা বরাবর সুড়ঙ্গ এগিয়ে যেতে থাকে। সুড়ঙ্গের ওই ঘরে দর্শকদের ঢুকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হতে পারে।