শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩০

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন পরশমণি

মাওলানা আবদুর রশিদ

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন পরশমণি

আল্লাহর রহমতের মাস রবিউল আউয়াল। এ মাসেই জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। সেরা মানব হিসেবেও নন্দিত তিনি।  রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পরশমণি। লোকবাহিনীতে বিবৃত পরশমণির সংস্পর্শে যেমন লোহা খাঁটি সোনা হয়ে যায়, তেমন আল্লাহর প্রিয় হাবিবের সংস্পর্শে যারা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন। সাহাবিরাও পরশমণির ছোঁয়ায় খাঁটি মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে আসার আগে সাহাবিরা ছিলেন অন্য সবার মতোই অন্ধকারের বাসিন্দা। কিন্তু দীনের পথে আসার পর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্পর্শ পাওয়ার পর তাদের অন্তর থেকে সব অন্ধকার দূর হয়ে যায়। আলোকিত জগতে প্রবেশ করেন তারা। তাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা তাদের অন্তরকে শিষ্টাচারের জন্য শোধিত করেছেন।’ আল কোরআনে সাহাবিদের ইমানকে ইমানের আদর্শ মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরশাদ করা হয়েছে, ‘যদি তারা ইমান আনে যেরূপ তোমরা ইমান এনেছ, তবে তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা হঠকারিতায় রয়েছে।’ সূরা বাকারা : ১৩৭। ওই আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইমানদার হতে হলে সাহাবিদের আদর্শ সামনে রাখতে হবে। সাহাবিদের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জাহান্নামের আগুন সেই মুসলমানকে স্পর্শ করতে পারবে না, যে আমাকে দেখেছে কিংবা আমাকে যারা দেখেছে (অর্থাৎ আমার সাহাবিরা) কিংবা আমাকে যারা দেখছে তাদের দেখেছে (অর্থাৎ তাবেয়িরা)।’ (তিরমিজি, মিশকাত)। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসাকে তার প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। একইভাবে সাহাবিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকে প্রকারান্তরে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ বলে অভিহিত করে এ ধরনের দুরাচার সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করেছেন। ইরশাদ করেছেন, ‘যারা সাহাবাকে ভালোবাসল তারা আমার ভালোবাসায় তাদের ভালোবাসল এবং যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, তারা আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)। কোরআন ও হাদিসের নিরিখে সাহাবাদের সব ধরনের সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখা মুমিনদের অবশ্য কর্তব্য। যারা সাহাবাদের পূতপবিত্র জীবনাচার সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ এবং তাদের বিরূপ সমালোচনা করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর লানত সম্পর্কে সতর্ক করেছেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইরশাদ করেছেন, ‘আমার সাহাবিরা আকাশের তারকাতুল্য। তোমরা তাদের যে কোনো একজনের অনুসরণ করবে, হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে।’ (মিশকাত)। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহাবিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য