শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০২১ ০৮:৪০
প্রিন্ট করুন printer

দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামে জাকাত পদ্ধতি

মুহাম্মদ আশরাফ আলী


দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামে জাকাত পদ্ধতি
প্রতীকী ছবি
Google News

দারিদ্র্য বিমোচন ও সমাজের ধনী-গরিব পার্থক্য কমিয়ে আনতে জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। জাকাত হচ্ছে একটি আর্থিক ইবাদত। নিজের ধন-সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব, মিসকিন ও অভাবী লোকের মধ্যে বণ্টন করাকে জাকাত বলা হয়। সালাতের পর ইসলামের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে জাকাত। দ্বিতীয় হিজরিতে মদিনায় জাকাত ফরজ হয়। নামাজ ও রোজার মতো জাকাত সব মুসলমানের ওপর ফরজ নয়। জাকাত ধনীদের জন্য ফরজ। যাদের কাছে বার্ষিক যাবতীয় খরচের পর সাড়ে সাত তোলা পরিমাণ সোনার সমমূল্যের সম্পদ কিংবা ৫২.৫ তোলা পরিমাণ রুপা বা রুপার সমমূল্যের সম্পদ গচ্ছিত থাকে তাদের জাকাত দিতে হবে।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি জাকাত। ইসলামে প্রতিটি অবস্থাপন্ন মোমিনের জন্য জাকাত আদায় ফরজ কর্তব্য। জাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তা আদায় না করলে আখিরাতে কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। আল কোরআনে সালাত বা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জাকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। অবস্থাপন্ন মোমিনদের জন্য জাকাত আদায় যে বাধ্যতামূলক তা বোঝাতে জাকাতের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সঞ্চয় থাকলে জাকাত আদায় বাধ্যতামূলক। সাধারণত দরিদ্র আত্মীয়স্বজন, দুস্থজন জাকাতের প্রধান দাবিদার। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোরআনে জাকাতের প্রাপক হিসেবে আরেক বিশেষ শ্রেণির দাবিদারের কথা বলেছেন। সুরা বাকারার ২৭৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ইহা প্রাপ্য অভাবগ্রস্ত লোকেরা, যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে দেশময় ঘোরাফেরা করতে পারে না; যাচ্ঞা না করার জন্য অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে, তুমি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না। যে ধনসম্পদ তোমরা ব্যয় কর আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।’ অনেক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবার আছে যারা সামাজিক মানমর্যাদার কারণে সাহায্যপ্রার্থী হতে পারে না কিংবা তারা সাহায্য চাইতে সংকোচে ভোগে, অথচ তাদের দেখলে বোঝা যায় তারা দৈন্যদশায় আছে এবং তাদের সাহায্যের প্রয়োজন। জাকাত আদায়ের সময় তাদের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কৃপণ ও দান-খয়রাতকারী দুই ব্যক্তি এমন দুই ব্যক্তির সঙ্গে তুলনীয়, যাদের পরিধানে রয়েছে লৌহবর্ম। তাদের উভয়ের হাত বুক ও কণ্ঠনালির মাঝখানে আটকে আছে। দান-খয়রাতকারী ব্যক্তি যখনই দান-খয়রাত করে তখনই তার লৌহবর্ম প্রশস্ত হয়ে যায়। আর কৃপণ যখনই দান-খয়রাতের ইচ্ছা করে তখনই তার লৌহবর্ম আরও সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং এর প্রতিটি বৃত্ত স্ব-স্ব স্থানে অনড় হয়ে থাকে।’ মুসলিম। জাকাত হলো ধনীর সম্পদে গরিবের হক। জাকাতকে কোনোভাবেই গরিবের প্রতি দয়াদাক্ষিণ্য বা দান-খয়রাত ভাবা উচিত নয়।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক