২৩ আগস্ট, ২০২১ ১২:৩১

মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য

আল্লামা মাহমূদুল হাসান

মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য

আল্লাহপাকের অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। উভয় সৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। ক. যথা- মানুষ একদিকে সর্বশেষ সৃষ্টি, অপরদিকে সর্বাপেক্ষা সুন্দর সৃষ্টি। 

আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ 

খ. মানুষ সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বটে। কিন্তু সৃষ্টি হিসেবে খুবই দুর্বল এবং মুখাপেক্ষী, অন্যান্য সৃষ্টির মুহ্তাজ। মাটি মানুষের মুখাপেক্ষী নয়, আগুন মানুষের মুহতাজ নয়, পানির জন্য মানুষের প্রয়োজন নেই, বাতাস মানুষের সহায়তার ভিখারি নয়, অনুরূপভাবে পাহাড়-পর্বত, চন্দ্র-সূর্যসহ কোনো সৃষ্টিই তার অস্তিত্ব টিকানোর জন্য মানুষের মুখাপেক্ষী নয়। 

আর মানুষ তার অস্তিত্বের জন্য, তার জীবন ধারণের জন্য জীবনোপকরণের জন্য অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি একান্তভাবেই মুহতাজ। চলাফেরা এবং অবস্থানের জন্য মানুষ মাটির মুখাপেক্ষী। পানি না হলে মানুষের প্রাণ রক্ষা করা কঠিন, বাতাস না হলে মানুষের জন্য মুহুর্তকাল জীবনধারণ করা সম্ভব ন। এমনিভাবে প্রতিটি সৃষ্টিই মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কারণেই আল্লাহপাক মানুষের সুবিধার্থে প্রথম ব্যবস্থাস্বরূপ সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করেন। অতঃপর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। 

মানুষ যাতে দৃষ্টির শান্তি লাভ করতে পারে, সে জন্য মানুষকে চক্ষু দান করেছেন। কিন্তু যদি সূর্যের আলো না থাকে, তাহলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি যতই প্রখর হোক না কেন, সে দৃষ্টির স্বাদ লাভে সক্ষম হবে না। এই প্রয়োজনে আল্লাহপাক সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যদি দেখার কোনো বস্তু না থাকে, তাহলে দৃষ্টি আরোপিত হবে কোথায়? তাই বিশাল বস্তুময় পৃথিবী সৃষ্টি করে দৃষ্টি আরোপের ব্যবস্থা করেছেন। এমনিভাবে শ্রবণশক্তি, ধারণশক্তি, চলৎশক্তি ও বাকশক্তিসহ সমস্ত শক্তি কার্যকরণে আল্লাহপাক যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যে সন্তানটি দুর্বল হয়, বিকলাঙ্গ হয়, তার প্রতি মাতা-পিতার অনুকম্পা ও মায়া-মমতার দৃষ্টি অধিক আরোপিত হয়। কারণ সুস্থ-সবল সন্তান নিজেই স্বীয় জীবনধারণে সক্ষম, তার জন্য অধিক সময় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যে সন্তান দুর্বল অথবা বিকলাঙ্গ, সে তার জীবনধারণে সক্ষম নয়, তাই তার প্রতি মাতা-পিতার অধিক করুণার প্রয়োজন, আর প্রয়োজন বলেই সে মাতা-পিতার অধিক করুণার পাত্র হয়। মূলত এটা হচ্ছে আল্লাহপাকের গুণের বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহপাক সর্বদাই দুর্বলের প্রতি করুণা করেন, মজলুমের সহায়ক হন। 

তিনি ইরশাদ করেন, ‘ফেরাউন পরাশক্তির অধিকারী ও অত্যাচারী ছিল, তার সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা বনি ইসরাইলের ছিল না। তাই আল্লাহপাক দুর্বল বনি ইসরাইলের সাথী হয়ে জালেম ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করেন। আর বনি ইসরাইলকে হেফাজত করে সম্মানিত করেন।’ এটাই হচ্ছে মহান রাব্বুল আলামীনের বিধান।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই রকম আরও টপিক