Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৯ ১৯:১২

পশ্চিমবঙ্গকে 'পশ্চিম বাংলাদেশ' করার চক্রান্ত মমতার সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গকে 'পশ্চিম বাংলাদেশ' করার চক্রান্ত মমতার সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের
দিলীপ ঘোষ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে রাজ্যটিকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ তৈরির করার চক্রান্ত করা হচ্ছে এবং আর এই চক্রান্ত করছে মমতা ব্যনার্জির রাজ্য সরকার।

মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় ‘মোশন অফ থ্যাঙ্কস’ পর্বে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রথমবারের এই সংসদ সদস্য। 

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দেশের সর্বত্র এক আইন হয়। কিন্তু আপনারা পশ্চিমবঙ্গে যেতে গেলে সেখানে বাংলা শিখে আসতে হবে। এখন মাননীয় সাংসদ হেমা মালিনী যদি গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নানে যেতে চান, তবে তাকে বাংলা শিখতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হেলিকপ্টার পশ্চিমবঙ্গে যেতে চাইলে তাদেরকে নামার অনুমতি দেওয়া হয় না।’ 

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন যে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওঁকে ধন্যবাদ। কোন বাংলা ভাষী প্রধানমন্ত্রী হলে আমরাও বাংলায় কথা বলতো পারবো। কিন্তু ৪২ আসনে জিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। এজন্য উনি ঠিক করেছেন যে বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গকে মিশিয়ে একটা দেশ তৈরি হলে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন এবং তিনি নিশ্চিতভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এজন্য সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ওদের কাছে জনপ্রিয় নেতা না থাকায় প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ থেকে অভিনেতা নিয়ে এসেছেন। ওনারা কেউ বহিরাগত নয়। ওই দেশ (বাংলাদেশ) থেকে অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা-যেই আসুক না কেন তারা বহিরাগত নয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ এ রাজ্যে আসলেই তারা বহিরাগত। আপনারা বাংলায় যেতে পারবেন না, সেখানে আপনাদের অনুমতি নেই। এজন্য আমরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান বলি। এটা কোন ধার্মিক স্লোগান নয়। কিন্তু তৃণমূলের তরফে পাল্টা বলা হচ্ছে ‘জয় বাংলা’। ওটা তো বাংলাদেশের স্লোগান। ওই বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গকে এখন ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর একটা চক্রান্ত চলছে। আমরা এর চরম বিরোধিতা করছি।’ 

তার আরও অভিযোগ, ‘স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে যে বাংলা সবসময় আগে থেকেছে, সেই বাংলাকেই এখন পিছনের সারিতে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাকে পৃথক করার একটা চক্রান্ত চলছে।’

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশজুড়ে ৫৪২ আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ আসনে কোথাও সহিংসতা, গণ্ডগোল হয়নি। কেবল রাজ্যের ৪২টি আসনেই মারপিট, খুন সংগঠিত হয়েছে, রাস্তা অবরোধ হয়েছে। ওই রাজ্যে ভোটার রয়েছে, কিন্তু ভোটাধিকার নেই। সরকার আছে, কিন্তু গণতন্ত্র নেই।’ এ সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’এর সদস্যরা ‘শেম শেম’ বলে টেবিল চাপড়াতে থাকেন। 

অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল এর নামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিজেপি নাগরিকত্ব ও ধর্মকে মিশিয়ে ফেলছে। এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের মধ্যে দিয়ে কেবলমাত্র একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে। 

কয়েকদিন আগে ঝাড়খন্ডের সেরাইকেলা এলাকায় মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিয়েও সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মহুয়া। 

বিডি-প্রতিদিন/২৫ জুন, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য