শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ মার্চ, ২০২১ ২২:২০
প্রিন্ট করুন printer

তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে জেলায় জেলায় ক্ষোভ, কেউ কেউ যোগ দিলেন বিজেপিতে

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে জেলায় জেলায় ক্ষোভ, কেউ কেউ যোগ দিলেন বিজেপিতে

এক দিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে (মোট ২৯৪ টি আসন) ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অভিনেতা, অভিনেত্রী, চিত্রপরিচালক, ক্রীড়াবিদ, চিকিৎসক- তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ছিল চমকে ভরা। একুশের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় একাধিক নতুন মুখ আনেন দলনেত্রী মমতা ব্যনার্জি। যদিও এই তালিকায় জায়গা হয়নি একাধিক বিধায়ক, নেতা, নেত্রীর। আর প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেই সব নেতা-নেত্রীরা। একুশের নির্বাচনে তৃণমূূলের প্রার্থী তালিকায় না থাকায় ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের সংস্পর্শ ত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লেখানোর হিড়িক চোখে পড়ছে। কেউ আবার প্রকাশ্যেই অবরোধ-বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। 

অসন্তোষের শুরুটা হয়েছিল শুক্রবার সন্ধ্যায়। ওইদিন বিকালে কালীঘাট থেকে রাজ্যটির ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২৯১ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যনার্জি। কিন্তু দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ভাঙড় বিধানসভার কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে ফের প্রার্থী না করায় প্রথম বিক্ষোভটা তিনিই দেখান। সেখানে প্রার্থী করা হয় চিকিৎসক রেজাউল করিমকে। আর এরপরই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সন্ধ্যায় আরাবুল ফেসবুকে লেখেন ‘দলের আজকে আমার প্রয়োজন ফুরালো!’ গণমাধ্যমের সামনেই চোখে পানি আর মুখে হুশিঁয়ারি দেন তিনি। এরপর ক্ষোভে নিজের দলীয় অফিস ভাঙেন আরাবুল। চলে রাস্তা আটকে অবরোধ। 

তালিকায় নিজের নাম না থাকায় আবেগ-ক্ষোভ কোনটাই চেপে রাখতে পারেননি একদা মমতার ছায়াসঙ্গী সোনালী। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাতগাছিয়ার বিধায়ক সোনালী গণমাধ্যমের সামনে রীতিমতো কেঁদে ফেলেন। তার অভিমত ‘৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস সেদিন নারীদের সম্মানিত করা হয়। সেখানে আমি খুব সম্মান পেলাম। মমতা দি এটা করতে পারে-আমার বিশ্বাস হয় না। এটাই আমার নিয়তি।’ 
প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই না পেয়ে পানি সিঙ্গুরের মাস্টারমশাইয়ের চোখেও। বয়স বেশি! তাই সিঙ্গুর থেকে এবার টিকিট পাননি রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সেখানে প্রার্থী করা হয় রবীন্দ্রনাথের বিরোধী শিবিরের প্রার্থী বেচারাম মান্না। আর এরপরই কান্না ভেজা গলায় তিনি বলেন ‘আমার ৮৯ বছর বয়স কিন্ত দলের কোন কাজে বিমুখতা দেখাই নি। কিন্তু তার পরও...’। 

বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকে এবার প্রার্থী করা হয়নি বলে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তিনিও। এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ড. সপ্তর্শি ব্যনার্জিকে। দীপেন্দুর অভিমত গোল না করলে আমাকে দলে রাখবে না কিন্তু আমি তো নিজের দক্ষতা দেখিয়েছি তার পরেও বাদ দেওয়া হল।’  

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শিবপুরের সাবেক বিধায়ক জটু লাহিড়ির নামও। আর তাই প্রার্থীপদ না পেয়ে অসম্মানিত হয়ে শনিবারই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন পাঁচবারের বিধায়ক জটু। 

টিকিট না পেয়ে সরাসরি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান বাঁকুড়ার সোনামুখীর তৃণমূল বিধায়ক দীপালি সাহাও। কলকাতার হেস্টিংসে অবস্থিত বিজেপি কার্যালয়ে এসে তিনি বিজেপিতে নাম লেখান। 
অন্যদিকে টিকিট না পেয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়ের সাথে দেখা করেন হতাশ তৃণমূল নেতা দীনেশ বাজাজ। 
নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং-কে প্রার্থী করায় ক্ষোভে তৃণমল দলটাই ছেড়ে দেন ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক মইনুদ্দিন শামস।  
টিকিট না পেয়ে কেউ কেউ বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, বাকিরাও সেই পথ অনুসরণ করে শেষমুহুর্তে ভোটের মুখে দল ছাড়েন কি না, বা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন কিনা- সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। 
এদিকে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে প্রার্থী করা নিয়ে তৃণমূলের একাংশ ক্ষোভ দেখায়। বার্ণপুরের তৃণমূল কর্মীদের দাবি বহিরাগত প্রার্থীকে তারা মেনে নেবে না। বিদায়ী বিধায়ক তাপস ব্যনার্জিকেই প্রার্থী করতে হবে। 
এছাড়াও বসিরহাট, বনগাঁ, আমডাঙা সহ একাধিক জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থী মনপুত না হওয়ায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। ব্যহত হয় যান চলাচল। পরে পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে।  

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর