শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:১৩

কৃষি সংবাদ

গাছে গাছে মাল্টা

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

গাছে গাছে মাল্টা

মাল্টা ভালো লাগে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। সেই মাল্টা এখন উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের গাছে গাছে ঝুলছে। কমলা চাষের সাফল্যের পর এবার মাল্টা চাষের সাফল্যে রঙিন কৃষকের মন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে ফিকে সবুজ বর্ণের এসব লোভনীয় মাল্টা। জুন মাসে এর ফল আসে এবং অক্টোবর মাসের দিকে মাল্টা পাকে। হিমালয়ের পাদদেশে দিনাজপুরের অবস্থান হওয়ায় ভৌগোলিক কারণে এ এলাকায় মাল্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলার মাল্টায় নেই কোনো ফরমালিন, নেই কোনো ঝুঁকি। তাই এই অঞ্চলের মাল্টাও হতে পারে অধিক জনপ্রিয়। কৃষক প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর আবাদ ব্যাপকহারে বাড়লে আর আমদানি করতে হবে না। মাল্টা ব্যাপকহারে চাষ হলে বীরগঞ্জ এলাকায় অর্থনৈতিকভাবে বিপ্লব সাধিত হবে বলে কৃষি বিভাগসহ উদ্যোক্তারা আশা করছেন। মাল্টা চাষি এরশাদুল হক জানান, মাটি চাষ উপযোগী ও লাভজনক হওয়ার কারণে বীরগঞ্জে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। আর এ মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে কৃষি বিভাগ। মাল্টা বাগানে ফল ধরেছে। একেকটি গাছে কমপক্ষে ৩০-৫০টি মাল্টা ধরেছে। মাল্টার দাম বেশি। চাষাবাদে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। মাল্টা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা যায়। বীরগঞ্জের কৃষক হেমচন্দ  দাস জানান, পরীক্ষামূলক চাষের সাফল্যের পর এবার আমার জমিতে মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ১০ শতক জমিতে বারি মাল্টা-১ জাতের ৩০টি মাল্টা গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বীরগঞ্জ এলাকায় কমলা এবং মাল্টা চাষের সাফল্য লাভের পর রাজস্ব খাতের অর্থায়নের খরিপ-২ মাল্টা প্রদর্শনী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাষিদের ব্রিফিং শেষে উপকরণসহ মাল্টার চারা বিতরণ করা হয়েছে। ভৌগোলিক কারণে এ এলাকায় মাল্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চাষের সাফল্যের পর ফের ১৮জুন ৩১জন চাষির মাঝে বারি মাল্টা-১ চারা প্রদান করে বীরগঞ্জ কৃষি অফিস। প্রত্যেক চাষিকে ৬০টি মাল্টার চারা ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। প্রদর্শনী প্লট হিসেবে উদ্যোক্তা চাষিদের ২০ শতক জমিতে ৬০টি চারা রোপণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি চারার মাঝে দুরত্ব ৯ হতে ১০ফিট। উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, এ এলাকার মাটি কমলা এবং মাল্টা চাষের জন্য বেশ উর্বর। ২০১৫ সালে তাই প্রাথমিকভাবে পৌরসভায় ১টি এবং ভোগনগর ইউনিয়নে ২টিসহ মোট ৩টি স্থানে বারি মাল্টা-১ জাতের গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে বীরগঞ্জে মাল্টা চাষের যাত্রা শুরু হয়।


আপনার মন্তব্য