শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:০৯

বছরে প্রয়োজন ১০ হাজার কোটি টাকা

মানিক মুনতাসির

বছরে প্রয়োজন ১০ হাজার কোটি টাকা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিবছর সরকারের প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি (এক বিলিয়ন ডলার) টাকা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ জোগাড়ে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩-৬ মে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫১তম বার্ষিক সভায় এ সংক্রান্ত পৃথক একটি সেশনের আয়োজন করা হয়। ওই সেশনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেখানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সরকারের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকিহিকো নাকাওকে বিষয়টি বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান। বলপূর্বক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে মিয়ানমার সরকার মূলত বাংলাদেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে— এমন মন্তব্য করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এ জন্য নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নাকাও। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে এডিবি তৎপর থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করবে এডিবি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলতি বছরের বাজেট থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের (২০১৮-১৯) বাজেটেও রোহিঙ্গা খাতে পৃথকভাবে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে আমরা বলেছি বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এ জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এতে নেতৃত্ব দেবে এবং সমন্বয় করবে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এডিবির বার্ষিক সভার ওই বিশেষ সেশনে জানানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের চেয়ে তাদের নিজে দেশে নিরাপদে ফেরত পাঠানো বেশি জরুরি। এ জন্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এডিবির বার্ষিক সভার শেষ দিনে দেশে ফেরার আগেও সংস্থাটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন খাতে। এ তিন খাতে মার্চ পর্যন্ত প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ওইসব এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর প্রকল্পের আওতায় মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে দ্বীপটিতে ভাঙন প্রতিরোধব্যবস্থাসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বাসস্থান সুবিধা, সুপেয় পানি, পয়োব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি নিষ্কাশন, পুকুর খনন, স্কুল, মসজিদ, অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইক্লোন শেল্টার স্টেশন, দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে উন্নয়ন সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও স্যানিটেশন পণ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। তবে এখন নগদ টাকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কেননা তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের বেতন-ভাতা নির্বাহ, বাসস্থানের জন্য ও অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে ৭১টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নেও ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। যা সরকারকে জাতীয় বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য