ঐতিহ্যবাহী চৌগ্রাম জমিদার বাড়ির শতবর্ষী ১৫টি গাছ গত রবিবার সন্ধ্যায় কেটে নেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সর্বত্র বইছে নিন্দার ঝড়। নাটোরের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গাছগুলোর মূল্য লক্ষাধিক টাকা। নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩০০ বছরের পুরনো চৌগ্রাম জমিদার বাড়ির ইতিহাস, ঐতিহ্য রক্ষা এবং সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ দাবি জানিয়ে আসছিল। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্র্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সম্প্রতি রাজবাড়িটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়। ঠিক এ সময় গাছকাটার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। গাছ কেটে পাচারের সময় ঠিকাদারের লোকজনের কাছ থেকে এলাকাবাসী গাছগুলো আটক করে। তারা গাছগুলো স্থানীয় চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে জব্দ করে রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মীম কনস্ট্রাকসন নামে একটি ঠিকাদারি ফার্ম এসব গাছ চুরি করে কেটে নেয়। চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা জানান, রাতের অন্ধকারে গাছগুলো ভ্যানে করে স্থানীয় ময়েন উদ্দিনের করাত কলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ও গ্রাম পুলিশ আটক করে।
মীম কনস্ট্রাকসন মালিক ফজলুর রহমান তারেকের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার বলেন, তার হুকুম ছাড়া আমার গাছ কাটা বা বিক্রির ক্ষমতা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল কুমার জানান, এবিষয়ে ভূমি অফিসকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ামাত্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, ১৭২০ সালে নাটোর জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চলনবিলের উত্তর পূর্ব কোণে ৯টি পুকুরসহ ৪৮ একর জমি জমিদার রসিক রায়কে দান করেন রাজা রামজীবন। ওই জমিতেই স্থাপিত হয় এই জমিদার বাড়ি। নাটোর রাজার অধীনে চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি ছিল একটি মাত্র পরগনা। রাজা রামজীবনের একমাত্র পুত্র রাজ কুমার কালিকা প্রসাদ অকালে মারা যায়। তাই, রামজীবন একটি সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চৌগ্রামের রসিক রায়ের ছিল দুই ছেলে কৃষ্ণকান্ত ও রামকান্ত। রাজা রামজীবন রামকান্তকে দত্তক নেন। পরে রামজীবন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এবং রংপুরের ইসলামাবাদ পরগনা রসিক রায়কে দান করেন। জমিদার বাড়ি জুড়ে দুই শতাধিক প্রাচীন বৃক্ষ রয়েছে।