ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি।
বৃহস্পতিবার তেহরানের বিরুদ্ধে পুনরায় জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ৩০ দিনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশগুলো। এই পদক্ষেপ ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তিনটি দেশ ই-থ্রি নামে পরিচিত। তারা স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম নামের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি অনুসারে ইরানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। দেশগুলোর আশঙ্কা ছিল যে, এই পদক্ষেপ না নিলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে তারা।
এই পদক্ষেপের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ই-থ্রি’কে কূটনীতিতে আঘাত হানার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান এ ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলবে।
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত কূটনীতির সমাপ্তি নয়। তার জার্মান প্রতিপক্ষ জোহান ওয়াদেফুল ইরানকে জাতিসংঘ পারমাণবিক সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার সময় কোনও সামরিক হামলা না চালানোর গ্যারান্টি দেয়, তাহলেই কেবল তেহরান আলোচনায় বসবে।
ই-থ্রি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান যদি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ নিরসনে আন্তরিকতা দেখায়, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরে বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক বিভাজনও গভীর হচ্ছে। দেশটির নেতারা এই বিষয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কট্টরপন্থীরা যেখানে প্রতিরোধের পক্ষে, সেখানে মধ্যপন্থীরা আলোচনার পক্ষপাতী।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা দেশটির আর্থিক, ব্যাংকিং, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা খাতকে প্রভাবিত করবে। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ