Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৬

দ্রুতগতির ঢাকা-বাইপাস

নির্মাণে যুক্ত হলো এডিবি, পণ্য নিয়ে ট্রাক লরির মতো ভারী যান ঢুকবে না ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্রুতগতির ঢাকা-বাইপাস

পণ্য নিয়ে ট্রাক, ট্যাংক-লরির মতো ভারী যানবাহন আর ঢুকবে না ঢাকায়। রাজধানীর পাশ দিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলে যাবে এসব পণ্যবাহী যান। এজন্য জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট দ্রুতগতির ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসেবে গৃহীত এ প্রকল্পটিতে এবার যুক্ত হলো এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবে এই উন্নয়ন সংস্থাটি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নির্মাণ হবে প্রকল্পটি।

সমন্বিতভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ করপোরেশন, শামীম এন্টারপ্রাইজ ও ইউডিই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। গতকাল এ তিন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে এডিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

প্রকল্পসূত্র জানান, এশিয়ান হাইওয়ের দুটি আন্তর্জাতিক (এএইচ-১, এএইচ-২) ও একটি আঞ্চলিক (এএইচ-৪১) রুট বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করেছে। রুট তিনটির অন্তর্ভুক্ত ১ হাজার ৭৪১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এশিয়ান হাইওয়ে রুটে অন্তর্ভুক্তির জন্য জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ে মানের সড়ক মূলত ‘প্রাইমারি বা ধমনি সড়ক’ নামে পরিচিত। এগুলোয় প্রবেশ সংরক্ষিত থাকে, যাতে অযান্ত্রিক ও ধীরগতির যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে। স্থানীয় ধীরগতির ও অযান্ত্রিক (স্কুটার, সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল) যানগুলোর জন্য পৃথক সড়ক (সার্ভিস রোড) থাকবে। আর প্রাইমারি সড়কের দুই পাশে নিরাপত্তামূলক বেষ্টনী বা সীমানাপ্রাচীর থাকবে যাতে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলতে পারে। ন্যূনতম চার লেনের এসব সড়কে কোনো মোড় থাকবে না। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে কমপক্ষে ৫০ মিটারের মধ্যে কোনো জনবসতি বা স্থাপনা রাখা যাবে না। প্রতি কিলোমিটার পরপর উল্লেখ থাকবে পরবর্তী জেলার নাম ও দূরত্ব। এসব সড়কের পাশ দিয়ে পথচারী চলাচল বা আড়াআড়ি সড়ক পারাপারও নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস সড়কটি শুরু হবে জয়দেবপুর থেকে। এরপর দেবগ্রাম, ভুলতা হয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত যাবে। বর্তমানে একই অ্যালাইনমেন্টে দুই লেনের বাইপাস সড়ক রয়েছে। এটিতে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে ও দুই পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য পৃথক লেন নির্মাণ করা হবে। সড়কটি উত্তরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সংযুক্ত করবে। এর বাইরে ভুলতায় ঢাকা-সিলেট ও ভোগরায় সংযোগ ঘটাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ঢাকার ভিতরে প্রবেশ ছাড়াই পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে যানবাহন চলাচল করবে। সড়কটিতে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের জন্য চারটি ইন্টারচেঞ্জ, পাঁচটি টোলপ্লাজা, দুটি রেলওয়ে ওভারপাস ও চারটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এর বাইরে ছয়টি সেতু প্রশস্ত পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য একাধিক আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। পিপিপির ভিত্তিতে সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২৩ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। অবশিষ্ট টাকা বিনিয়োগ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যা সরবরাহ করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চুক্তি অনুযায়ী, এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। শেষ করতে হবে ২০২২ সালের মধ্যে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী ২৫ বছর টোল আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে নেবে। এ সময়ে সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবে তারা। নির্মিতব্য বাইপাস সড়কটির ধীরগতি লেন দিয়ে টোলমুক্তভাবে চলাচল করা যাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসার এইচ উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্প বাংলাদেশে জনসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা এনে দেবে। এটি দেশের প্রথম প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যে আর্থিক লেনদেন হবে তাতে এডিবির মতো প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য