শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:২৮

দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চট্টগ্রামে

শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে নগরীর লালখান বাজার পর্যন্ত, নির্মাণ শুরু ফেব্রুয়ারিতে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আগামী মাস থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে। নগরের প্রধানতম সড়কটিতে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ। যানজট কমবে। বিকশিত হবে পর্যটন খাত। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) নগরের বৃহত্তম এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বহুমাত্রিক উন্নয়ন সাধন হয়নি। কমছে বিদেশি বিনিয়োগ, শূন্যের কোঠায় নামছে গার্মেন্ট শিল্পের বিনিয়োগ। গার্মেন্ট শিল্পে চট্টগ্রামের রপ্তানি ৪০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসে। এমনকি ইপিজেডেও রপ্তানিতে ধস নামে। কিন্তু এখন একটি মাত্র প্রকল্প দিয়েই আমূল পরিবর্তন হবে চট্টগ্রামের।’

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহরে প্রবেশ করতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লেগে যায়। সঙ্গে থাকে চরম ভোগান্তি। এই দুই ঘণ্টা আমাদের নষ্টই হয়। কিন্তু এই সময়টা বাঁচানো দরকার। আমরা চাই ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরে প্রবেশ করতে। তখন আমাদের থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বিরূপ মনোভাবটা দূর হবে।’ জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) চট্টগ্রামের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকৌশলী ইশতিয়াক উর রহমান বলেন, ‘বিামনবন্দর থেকে নেমে মূল নগরে প্রবেশ করতেই যানজট, বেহাল সড়কসহ নানা কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের মধ্যে নগর নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তবে প্রকল্পটি নগর উন্নয়নের একটি স্বপ্নের বড় অংশ। আশা করছি যথা সময়ে কাজ শুরু করা হবে। এটি পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থাই পাল্টে যাবে।’ গত রবিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নগরের নারিকেল তলা মোড়, স্টিলমিল, কাঠগড়সহ বেশ কয়েকটি জংশনে টিনের ঘেরাও দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট স্থানের সয়েল টেস্ট, মাটির নিচে কোনো প্রকারের পাইপ কিংবা অন্য কিছু আছে কিনা এসব পরিক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, আগামী মাসের শুরুতেই প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।’ চউকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫৪ ফুট। নগরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ে। উড়ালসড়কের মতোই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দিয়ে যন্ত্রচালিত যান চলবে। এক্সপ্রেসওয়েতে নয়টি এলাকায় ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) থাকবে। নগরের টাইগারপাসে চারটি, আগ্রাবাদে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টমস মোড়ে দুটি, সিইপিজেডে চারটি, কেইপিজেডে দুটি, কাঠগড়ে দুটি, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় দুটি র‌্যাম্প থাকবে। র‌্যাম্পগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। প্রতিটি র‌্যাম্প হবে দুই লেনের। জানা যায়, নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধানতম যোগাযোগ মাধ্যম বিমানবন্দর সড়ক। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য আনানেওয়া করা হয় এ সড়ক দিয়ে। চট্টগ্রাম নগর থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরেও যেতে হয় এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে অন্যান্য সড়কের তুলনায় এই সড়কের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে চউক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশের নির্মাণকাজ করবে নগরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কাস্টমস মোড় পর্যন্ত। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য অংশের কাজ চলবে। নির্মাণকাজ শুরু হলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পাশে নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নতুন এই সড়ক চালু হলে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচলের চাপ কমবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর