শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০১:৪৯

সর্বদলীয় বৈঠকে ঘোষণা

জঙ্গি দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে গোটা ভারত

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

জঙ্গি দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে গোটা ভারত

‘জঙ্গি দমনে গোটা ভারত নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে আছে এবং থাকবে। দেশের অখ তা ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো যথাসাধ্য করবে’- এই সংকল্প ঘোষণা করা হয় গতকাল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় সর্বদলের বৈঠকে। পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ সদস্যদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় গত বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪২ জওয়ানের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকটি ডেকেছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেতৃত্বও দেন তিনি। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সংসদীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং টোমার, কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবী আজাদ, আনন্দ শর্মা ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির জিতেন্দ্র রেড্ডি, সিপিআই-এর ডি. রাজা, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শরদ পাওয়ার, ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর ফারুক আবদুল্লাহ, লোক জনতা পার্টির রাম বিলাস পাসওয়ান প্রমুখ। বৈঠকে সরকারের তরফে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জঙ্গি হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে সবাই একজোট হয়ে জঙ্গি দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো এবং ভারতের অখ তা ও একতা বজায় রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য ঘোষণা করেন। মোদির কড়া হুঁশিয়ারি : শনিবারও ফের একবার জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহারাষ্ট্রের ইয়াবাতমল-এর একটি অনুষ্ঠান থেকে মোদি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিশেষ করে সিআরপিএফ-এর মধ্যে জমা হওয়া ক্রোধ দেশবাসী অনুধাবন করতে পারছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রত্যাঘাতের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’ মোদি জানান, ‘জঙ্গিরা ও তাদের মদদদাতারা যেখানেই পালিয়ে কিংবা লুকিয়ে থাকুক না কেন তাদের ধরে আনা হবে এবং কঠোর সাজা দেওয়া হবে।’ আর আগে শুক্রবারও দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠান থেকে জঙ্গি হামলার নিন্দা করে তিনি জানিয়েছিলেন ‘এই হামলায় যারা দায়ী তাদের বড় মূল্য চোকাতে হবে।’ কলকাতায় দুই জওয়ানের মরদেহ : শনিবার বিকালেই পুলওয়ামায় নিহত পশ্চিমবঙ্গের দুই সিআরপিএফ জওয়ান বাবলু সাঁতরা ও সুদীপ বিশ্বাসের কফিনবন্দী মরদেহ বিশেষ বিমানে করে নিয়ে আসা হয় কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখানে  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাসহ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিমানবন্দরেই নিহত দুই শহীদ জওয়ানকে বাহিনীর তরফে ‘গার্ড অব অনার’ও দেওয়া হয়। এরপর ওই দুই নিথর দেহ তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিকালের দিকে হাওড়া ও নদীয়ার পলাশীপাড়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়ি রওনা দেবে তাদের কফিনবন্দী দেহ।  মোমবাতি মিছিল : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে এবং নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি মিছিলে হাঁটলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জি। শনিবার বিকালে শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয় তৃণমূলের তরফে। এদিন বিকাল ৪টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড় থেকে মিছিলের যাত্রা শুরু হয়।  মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মিছিলে পা মেলান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ সুব্রত বক্সি, দোলা সেনসহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক। মোমবাতি হাতে নিয়ে মিছিলে পা মেলায় দলের অসংখ্য কর্মী-সমর্থকও। মিছিল শেষ হয় কলকাতার মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে। টুইট করে এদিন মমতা নিজেও জানান, ‘আমরা আমাদের জওয়ান, দেশবাসী ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের সঙ্গে থাকার সংহতি প্রকাশ করছি। এই মুহূর্তে আমরা সবাই এক।’

কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর নিহত : ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর র‌্যাংকের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল রাজ্যটির রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে ঘটনাটি ঘটেছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের ওই কর্মকর্তা ঘরে তৈরি একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ’ কাশ্মীরের মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) থেকে ভারতীয় পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভিতরে বোমাটি পেতে রাখা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা বোমাটি পেতে রেখেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান নিহত হয়। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর বোমা বিস্ফোরণে দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মেজর নিহত হলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর