শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৫

বিভিন্ন দেশে অমর একুশ পালিত

প্রতিদিন ডেস্ক

বিভিন্ন দেশে অমর একুশ পালিত

প্রভাত ফেরি, শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো, শপথ গ্রহণ, সমাবেশ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আমেরিকায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। খবর : এনআরবি নিউজ’র।

এ উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত বারটা এক মিনিটে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদোগে কুইন্স প্যালেস, জেবিবিএ ও জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর উদ্যোগে পালকি পার্টি সেন্টার, বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে গুলশান টেরেস, ব্রুকলিনে নোয়াখালী সোসাইটি ও চট্টগ্রাম সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন, জ্যামাইকায় ফ্রেন্ডস সোসাইটি ও নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, নিউজার্সির প্যাটারসন ও আটলান্টিক সিটি, পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া, ফ্লোরিডা, লসএঞ্জেলেস, মিশিগান, শিকাগো, বস্টন, কানেকটিকাট, হাডসন, বাফেলো, হিউস্টন, ডালাস, আটলান্টায় শহীদ মিনার নির্মাণ করে একুশের প্রভাত ফেরির পর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। কলকাতায় মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালনে নানা অনুষ্ঠান : যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের পক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকালে উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। এরপর কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে নানা বর্ণের পোস্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাতফেরিতে উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়।

এরপর তা কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্টে ক্রসিং-আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে। এরপর মিশন প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে শহীদ সালাম-বরকতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র প্রমুখ।

 শেষে আন্তর্জাতিক ভাষাদিবস নিয়ে এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে। এ দিন বিকালে কলামন্দিরের কলাকুঞ্জ সভাগৃহে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনের মাহাত্ম তুলে ধরে বিমান বসু জানান, ‘১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল দিন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ এই কথা বাংলাভাষি সমস্ত মানুষের মননে, চিন্তায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এই ভাষা আন্দোলনের উৎপত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অধ্যাপক, গবেষক- যা সারা পূর্ব পাকিস্তানে বিস্তারিত হয়ে এক অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল।’ তাঁর অভিমত ‘ভাষা স্বাধিকারের প্রশ্ন যে কত বড় মাহাত্মপূর্ণ বিষয় হতে পারে, তা বিশ্বের ইতিহাসে সাক্ষ্য বহন করছে বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে ওঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে।’ উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ‘এই দিনটি প্রতিটি বাঙালির জন্য অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাংলাদেশ মিশন ছাড়াও কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহকুমাগুলোতেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় সারা রাত অনুষ্ঠান করেছে ভাষা ও চেতনা সমিতি। বুধবার বিকাল থেকে কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে ছাতিমতলায় শুরু হয় রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসব। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। রাতব্যাপী এই অনুষ্ঠানে নাটক, বাউল, লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১২টায় হয় মশাল মিছিল। উৎসবে যোগ দেন বাংলাদেশ, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ‘দুই বাংলা মৈত্রী সমিতি’র তরফে ভাষাশহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবনে অস্থায়ী ‘শহীদ মিনার’ তৈরি করে সেখানে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের কাউন্সেলর শাহনাজ আখতার রানু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  এ ছাড়াও এ দিন ধর্মতলায় ২১শে উদ্যান শহীদ স্মারক এবং দেশপ্রিয় পার্কের ভাষা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।


আপনার মন্তব্য