শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৮

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

৪৩ চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র সাতজন

মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

Google News

কুমিল্লার বৃহৎ উপজেলা মুরাদনগরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪৩। কিন্তু বাস্তবে আছেন মাত্র সাতজন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জনের পদ থাকলেও আছেন চারজন চিকিৎসক। ফলে মাঠ পর্যায়ে থাকা আরও তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালে এনে জোড়াতালি দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চিকিৎসক শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি না থাকায় উপজেলার লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা  থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোগীর উপচেপড়া ভিড় সামলাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও আউটডোর ও ইনডোরে রোগী দেখতে হচ্ছে। মুরাদনগরে ছয় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অন্য উপজেলার মতো মুরাদনগরে প্রাইভেট হাসপাতাল কম। এতে এ উপজেলার বাসিন্দাদের সব ধরনের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই একমাত্র ভরসা। গত দুই বছরেও বেশি সময় ধরে এ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চলছে। এখানে আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী আসেন। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৫৫ থেকে ৬০ জন রোগী। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনোলজিস্ট সংকটে তা চালানো হচ্ছে না। পড়ে থেকে এটি এখন নষ্ট হওয়ার পথে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও ব্যবহারের মতো অভিজ্ঞ কেউ নেই। হেড ক্লার্ক, অফিস সহকারীর তিনটি পদ, পরিসংখ্যানবিদ এবং ক্যাশিয়ারের পদ খালি রয়েছে। উপজেলার রামচন্দ্রপুর, জাহাপুর, বাঙ্গরা, হায়দরাবাদ, গান্ধ্যা, নগরপাড় ও শ্রীকাইল এলাকায় সাতটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় সেখানেও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ এলাকার মুরাদ হোসেন জানান, চিকিৎসক ও এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগীদের   ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাই অনেক রোগী বাধ্য হয়ে পাশের উপজেলা দেবিদ্বারে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন।

 এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলী নূর মো. বশির আহমেদ বলেন, ছয় লাখ বাসিন্দার চিকিৎসাসেবায় মাত্র তিনজন চিকিৎসক আছেন, আমিসহ চারজন। মাঠ পর্যায় থেকে আরও তিনজন তুলে আনা হয়েছে। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য আরও চিকিৎসক প্রয়োজন।