Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৪

উপজেলা ভোট নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

প্রতিদিন ডেস্ক

উপজেলা ভোট নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বিভিন্ন স্থানে মূল প্রার্থী ও স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হয়েছেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফরিদপুর : ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) কাজী শাহ জামান বাবুলের সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আইনপুরে সকালের দিকে নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের সমর্থকদের সঙ্গে আনারস প্রতীকের শাহ জামান বাবুলের সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, নৌকা প্রতীকের সমর্থক ইনছুর শেখের সঙ্গে আনারস প্রতীকের সমর্থক নাসিরের কথা কাটাকাটির জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে ১৭ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমজেদ শেখ (৩৫) ও বাবুল শেখকে (৪২) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নগরকান্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে বিকালে চরযশোরদী ইউনিয়নের চাঁদহাট ধর্মদী এলাকায় নৌকা প্রার্থীর সমাবেশে হামলা চালিয়ে মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করেছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুলের সমর্থকেরা। বেলা ৪টার দিকে ধর্মদী এলাকায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান পথিক তালুকদারের নেতৃত্বে কয়েকশ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ও কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় নৌকার ১৩ সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুটি স্থানে অবস্থান করায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত ডা. আবদুর রহিম ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়ান তানভির আশরাফী বাবুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলাবাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যান প্রার্থী রহিমের পক্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুন ও বাবুর পক্ষে ইউপি সদস্য আবদুল মতিনের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আশরাফী বাবুর কর্মী কামরুল, নজরুল, রাজ্জাক ও করিম উপজেলা সদর থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। টেংরাটিলাবাজারের আজবপুর মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুন খন্দকারের ভাই ইমু যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি গ্রুপ নিয়ে মোটরসাইকেলের পথরোধ করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। পরে সালিশ বৈঠকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বগুড়া : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়া সদর উপজেলার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের মোটরসাইকেল প্রতীকের এক হাজার পোস্টার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পোস্টার পোড়ানোর জন্য মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে দায়ী করেছেন। স্থানীয়রা জানান, একটি ভ্যানগাড়ি যোগে রুবেলের কর্মীরা পোস্টার নিয়ে শহরের গালাপট্টি শহর বিএনপি অফিসের সামনে আসেন। তারা পোস্টারগুলো সেখানে ঝুলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ অফিস থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সেখানে পৌঁছে রুবেলের কর্মীদের ধাওয়া করেন। তারা পালিয়ে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা পোস্টারগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত (নৌকা) প্রার্থী এমাদুল হক মনির এবং স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যন গোলাম কিবরিয়া সিকদার, তার বড় ভাই সদর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম কবির সিকদার, সমর্থক শিল্পপতি কৌশিক সেন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জিসান সিকদারও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়ে কিবরিয়া সিকদারের তালতলা বাজারের নির্বাচনীয় কার্যালয়, শিল্পপতি কৌসিক সেনের দুটি প্রাইভেটকার, বাসার জানালা-গ্লাসসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এক পর্যায়ে কিবরিয়া সিকদার তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে নৌকার সমর্থকরা তাদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ অবস্থায় থানা পুলিশ পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়। পরে ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর সার্কেল) মো. মোজাম্মেল হক রেজা এবং ইউএনও আকন্দ মোহম্মদ ফয়সাল উদ্দীন ঘটনাস্থল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে বরিশাল র‌্যাব-৮ সদস্যরা কিবরিয়া সিকদারকে উদ্ধার করে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এদিকে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা। মিছিলটি বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়স্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়টি তারা দখল করে নেন।


আপনার মন্তব্য