Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০১৯ ২৩:০৮

হাই কোর্টের রুল

নিরাপত্তা হেফাজত নীতিমালা কেন করা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপত্তা হেফাজত নীতিমালা কেন করা হবে না

নিরাপত্তা হেফাজত নিয়ে বিচারিক নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে লিরা বড়ুয়া নামের এক ভিকটিমকে আইন বহির্ভূতভাবে নিরাপত্তা হেফাজতে দেওয়া বিচারিক আদালতের (ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) আদেশ কেন অবৈধ হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত। গতকাল লিরা বড়ুয়ার বাবার দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ মোট ছয়জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।  আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা বৌদ্ধ ধর্মের লিরা বড়ুয়াকে ধর্মান্তরিত করার ব্যাখ্যা চেয়ে একটি আইনি নোটিস পাঠান লিরার বাবা দেবব্রত বড়ুয়া। ওই নোটিসে বলা হয়, ‘২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর লিরা বড়ুয়া নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর গত ৩ নভেম্বর লিরা তার নিজের নিরাপত্তা হেফাজত চেয়ে রমনা থানায় আবেদন জানায়। পরদিন থানা থেকে লিরাকে নিরাপত্তা হেফাজত দেওয়ার কথা বলা হলেও এদিন লিরা কোথায় ছিল তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ লিরাকে ৫ নভেম্বর আদালতে উপস্থাপন করে তার নিরাপত্তা হেফাজতের আবেদন জানায়। সে আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে লিরাকে নিরাপত্তা হেফাজত দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুসারে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ লিরাকে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য রাখে। কিন্তু এর দুই মাস পর এ বিষয়ে আদালতে শুনানির দিন নির্ধারণ থাকলেও লিরার অসুস্থতার কারণে তাকে আর আদালতে হাজির করা হয়নি। আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মামলার দিন নির্ধারণ ছিল। সেদিন আইনজীবী হিসেবে আমি এবং মেয়েটির বাবা আদালতে হাজির হয়ে জানতে পারি ২০ ফেব্রুয়ারির আগেই গত ১১ ফেব্রুয়ারি একটি এবং এর পরে আরও একটি আবেদন দিয়ে লিরা নিজের জিম্মায় যেতে আদালতে আরজি জানিয়েছে। কিন্তু ওইসব আবেদনে ‘লিরা বড়ুয়া’র স্থানে ‘লিরা ইয়াসমিন’ নাম লেখা দেখতে পাই। এ বিষয়ে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তার নাম কিংবা ধর্ম পরিবর্তনের কোনো এফিডেভিটের বিষয়ে প্রশ্ন না করেই মেয়েটিকে তার নিজের জিম্মায় যাওয়ার আদেশ দিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি।

 এতে তার বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এরপর গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিরা বড়ুয়াকে মহিলা পরিষদের নিরাপত্তা হেফাজতে দেওয়ার আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার বাবা রিট দায়ের করেন। গত ৫ মে দায়ের হওয়া ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করল।


আপনার মন্তব্য