শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০১৯ ২২:২৩

২০০০ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল

ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

আকতারুজ্জামান

২০০০ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল

প্রায় ২ হাজার সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে ধুঁকছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় এসব স্কুলে নামেমাত্র পাঠদান সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাহত হচ্ছে কাক্সিক্ষত শিক্ষা কার্যক্রম। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৪৩টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সৃষ্টপদ রয়েছে মোট ১০ হাজার ৫৬৩টি। কিন্তু স্কুলগুলোতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষক। বাকি ১ হাজার ৯৯৯ জন শিক্ষকের পদই শূন্য রয়েছে। মাউশি সূত্র জানায়, অনেক স্কুলে শিক্ষক স্বল্পতা থাকলেও ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে শিক্ষকের স্বল্পতা খুব কম। জেলা সদরগুলোতেও শিক্ষকের স্বল্পতা কম।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সদরে অবস্থিত সরকারি এস.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জন শিক্ষকের সৃষ্টপদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৩ জন। ১৯ জন শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে কোনোমতে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে আসছে জেলা সদরে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি। সরকারি এস.সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শিক্ষকের স্বল্পতা। শিক্ষকের পাশাপাশি শূন্য রয়েছে কয়েকটি কর্মচারির পদও। তিনি বলেন, এ পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও   ভালো হতো। শরিয়তপুরে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০টি শিক্ষকের সৃষ্টপদ থাকলেও এখানে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৭ জন। ২৩ জন শিক্ষকের স্বল্পতা নিয়ে ধুঁকছে বিদ্যালয়টি। চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থিত আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ২৫টি। এ বিদ্যাপীঠে ৮ জন শিক্ষকের পদই শূন্য। শুধু এই কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলই নয়, দেশের অনেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকটে ভুগছে। শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ে ক্লাস নেওয়া, লাইব্রেরিয়ান সংকটসহ নানা সমস্যায় পর্যুদস্ত দেশের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো। নোয়াখালীর হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন। একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ২৫ জন সহকারী শিক্ষকসহ মোট ২৭ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও অর্ধেকের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য এখানে। গত প্রায় দুই বছর ধরে স্কুলটিতে শিক্ষকের এমন সংকটাবস্থা রয়েছে। শুধু নোয়াখালীর হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নয়, শিক্ষক সংকটে দেশের অনেক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কাক্সিক্ষতমানের পাঠদান সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাজধানীর বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি মাধ্যমিকে ব্যাপকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানীর স্কুলগুলোতেও রয়েছে শিক্ষকের স্বল্পতা। উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষক সংকট প্রকট। অবিলম্বে এ সংকটাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা দেওয়ার পর নিয়োগবিধি সংশোধনজনিত কারণে গত ২০১২ সাল থেকে সরকারি মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মাঝে-মধ্যে নন ক্যাডার থেকে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ দিলেও শূন্যতা থেকেই গেছে। এসব বিষয়ে মাউশি’র পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আবদুল মান্নান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্কুলের যারা অবসরে যাবেন- তাদের হিসাব করে শূন্যপদের তালিকা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার আবেদনপত্র জমা হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করবে কমিশন। আগামী বছরের প্রথমদিকে এসব বিদ্যালয়ের সব শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে।


আপনার মন্তব্য