শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৯ ২২:৩৫

স্ট্যানচার্ট ব্যাংকের গবেষণা

ভারতীয়দের চেয়ে ধনী হবে বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয়দের চেয়ে ধনী হবে বাংলাদেশিরা

আগামী এক দশকে বাংলাদেশিরা ভারতীয়দের চেয়ে বেশি ধনী হবে, এমন তথ্য উঠে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গবেষণায়। এই আন্তর্জাতিক ব্যাংকটি বলছে- মাথাপিছু আয়ের হিসেবে আগামী এক দশকে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। অর্থনীতির বিচারে আগামী দশক হবে এশিয়ার এবং এই মহাদেশের দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হবে খুবই উল্লেখযোগ্য। একইসঙ্গে এই শতাব্দীর বিশ দশকে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ। পুরো বিশ দশক ধরেই এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এশিয়ার এই দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ফিলিপাইন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রকাশিত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়- ব্যাংকটির ভারত-ভিত্তিক গবেষণা শাখার প্রধান মাধুর ঝা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যান এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণায় বলা হয়- আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এসব দেশের লোকসংখ্যা হবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ। এই বিশাল জনসংখ্যা ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিনিয়োগ থেকে সুফল পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ। যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়- এশিয়াতে এই পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে ২০১০ সাল থেকে। তখন থেকেই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এশিয়ার এ দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নজর রাখতে শুরু করে। গবেষণার তথ্য বলছে- মাথাপিছু আয়ের হিসেবে আগামী এক দশকে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় যেখানে ১ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার সেখানে ২০৩০ সালে এই আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৭০০ ডলার। এই একই সময়ে ভারতে মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪০০ ডলার। যদিও বর্তমানে ভারতে মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। ২০১৮ সালে ভারতে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৯০০ ডলার।

মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি ঘটবে ভিয়েতনামে। বলা হচ্ছে, তাদের হিসেবে, ২০৩০ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার ৪০০ ডলার যেখানে গত বছর এই আয় ছিল ২ হাজার ৫০০ ডলার। মিয়ানমারেও বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং ২০৩০ সালে তাদের এই আয় দাঁড়াবে ৪ হাজার ৮০০ ডলার। সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধির  দেশগুলোর এই ক্লাবে গত চার দশক ধরেই ছিল চীন। কিন্তু এবার যে তালিকা করা হয়েছে, তাতে চীন বাদ পড়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় শ্লথ হয়ে পড়েছে। চীন যেভাবে উচ্চ আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে  সেখানে দ্রুত হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। ফলে আগামী এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতির দুই নম্বর দেশ চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষক মাধুর ঝা এবং ডেভিড ম্যান বলছেন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশগুলোতে আয় বৈষম্য, অপরাধ, দূষণের ব্যাপারেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি যে  লোকজনকে শুধু চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে তা নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও কমে আসে। এর ফলে অনেক ধরনের সংস্কারের কাজও সহজ হয়ে পড়েছে।


আপনার মন্তব্য