Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০১৯ ২৩:১৮

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ

দুর্নীতি বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা চায় দুদক

আকতারুজ্জামান

দুর্নীতি বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা চায় দুদক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে হর-হামেশাই। মেধাবীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী নিয়োগ দেওয়া ছাড়াও এ নিয়ে অর্থবাণিজ্য, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করতে দেখা গেছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব দুর্নীতি বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা চাইছে। দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৮ এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রশ্নে এ সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদন্ডে কাক্সিক্ষত মাত্রায় সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্নীতির খবর মানুষের মুখে মুখে। দুর্নীতি দমন কমিশনও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাবমূর্তি ম্লান করে দিচ্ছে।’ নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশও করেছে দুদক। সুপারিশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পাওয়া উচিত। দুদক বলছে, ইউজিসির মাধ্যমে একটি সমন্বিত ভর্তি নিয়োগ-নীতিমালা প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য বোর্ড রয়েছে। নিয়মনীতি রয়েছে নিয়োগের জন্য। কিন্তু শুধু নিয়মনীতি থাকলেই হবে না- যারা নিয়োগ দেয় সেই কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে নৈতিকতা থাকতে হবে। কারণ তাদের মধ্যে অনৈতিকতার জন্য বিভিন্ন স্থানে নিয়োগে দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে যেন দুর্নীতির ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে মেধার ভিত্তিতেই। যারা মেধাকে প্রাধান্য দেবেন তাদেরই নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিভিন্ন কোচিংয়ে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির নামে কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনুদান, উন্নয়ন তহবিলের নামে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসব চলতে থাকে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এটি তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও আত্মিকভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এমন কর্মকা- সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির অন্যতম অন্তরায়। দুদকের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু সুপারিশও করেছে দুদক। দুদক বলেছে, মেডিকেল কলেজগুলোর বিদ্যমান ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি সম্পন্ন করা যেতে পারে। একইভাবে দেশের প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত একক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে একটি সমন্বিত ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।


আপনার মন্তব্য