শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৮

যশোরে গৃহবধূর অভিযোগ

দারোগা খাইরুল আর সোর্স কামারুল আমায় ধর্ষণ করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

দারোগা খাইরুল আর সোর্স কামারুল আমায় ধর্ষণ করেছে

৩০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ গতকাল সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এসে বলেন, ‘দারোগা খাইরুল আর দারোগার সোর্স কামারুল আমায় ধর্ষণ করেছে। পরীক্ষা করে দেখুন।’ এর পরই বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগ করার সময় গৃহবধূর কোলে ছিল তার শিশু সন্তান। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। গোড়পাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই খাইরুল ও তার সোর্স কামারুল ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটান বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেন, একসময় তার স্বামী চোরাকারবারিদের মাল বহনের কাজ করতেন। কিন্তু এখন তিনি কৃষিকাজ করেন। মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে খাইরুল, তার সোর্স কামারুল এবং গ্রামের আরও দুজন তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তিনি দরজা খুলতে না চাইলে তখন ওই ব্যক্তিরা তাকে বলেন যে, তারা তার স্বামীর মামলার ব্যাপারে কথা বলতে এসেছেন। এ কথা শুনে তিনি দরজা খোলেন। মহিলা বলেন, দারোগা খাইরুল তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলেন যে, টাকা দিলে তার স্বামীর মামলা তিনি হালকা করে দেবেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খাইরুল ও কামারুল তাকে জোর করে ঘরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে চলে যান। মহিলা বলেন, সকালে বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানালে তারা মামলা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি থানায় না গিয়ে সোজা হাসপাতালে চলে এলেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ বলেন, ‘ওই নারী জরুরি বিভাগে এলে জানানো হয়, পুলিশের মাধ্যমে না এলে এ ধরনের পরীক্ষা করানো সম্ভব নয়। তখন ওই নারী বিষয়টি পুলিশকে জানালে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান তাকে পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যান।’

‘কনফিউশন তৈরি হয়েছে’ : গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি অভিযুক্ত ওই পুলিশ অফিসারকে ওই নারীর মুখোমুখি করিয়েছিলাম। তখন ওই নারী বলছেন যে, যে দুজন তাকে ধর্ষণ করেছে তার মধ্যে এই ব্যক্তি ছিলেন না। তাহলে খাইরুলের নাম আপনি কেন বললেন? জবাবে ওই নারী বলেন, চারজনের মধ্যে অন্য যারা ছিল তারা নিজেরা কথা বলার সময় একজনকে “খাইরুল” বলে উল্লেখ করেছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে একটু কনফিউশন তৈরি হয়েছে।’ পুলিশ সুপার বলেন, ‘পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ বলে বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই হালকা করে নিচ্ছি না। দায়ী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যেমন বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছি না, আবার বিনা কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা-ও চাই না।’


আপনার মন্তব্য