শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৫

উন্নয়ন মেলায় প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুদ্র ঋণে দারিদ্র্য লালন পালন হয়

প্রতিদিন ডেস্ক

ক্ষুদ্র ঋণে দারিদ্র্য লালন পালন হয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উন্নয়ন মেলার স্টল পরিদর্শন করেন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে আসলে দারিদ্র্য বিমোচন হয় না। দারিদ্র্য লালন-পালন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘উন্নয়ন মেলা ২০১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পিকেএসএফ’র বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আয়োজিত এই মেলা চলবে সাত দিন (সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত)। প্রধানমন্ত্রী তার ভারণে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, কেউ কেউ এর প্রবক্তা হিসেবে নাম-যশ কামালেও বাস্তবতা হচ্ছে যে দেশের জনগণ এর অতটা সুফল পায়নি।

তিনি বলেন, ‘এক সময় আমরা দেখেছি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে (কর্মসূচি) কেউ কেউ খুব বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক সময় আমরাও এটাকে সমর্থন দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম যে এর মাধ্যমে বুঝি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখন আমরা বিষয়টা আরও গভীরভাবে দেখলাম, তাতে দেখলাম, আসলে এর মাধ্যমে দারিদ্র্য ঠিক বিমোচন হয় না। দারিদ্র্য লালন-পালন হয়’, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ঋণটা স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। যদিও আমাদের দেশে কেউ কেউ ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা সেজে বিশ্বে ভালো নাম টামও করে ফেলেছেন। কিন্তু দেখা গেছে হয়তো নিজে যতটা নাম কামিয়েছেন দেশের মানুষ ততটা শুভফল পায়নি, এটা হলো বাস্তব।’ জাতির পিতা বিআরডিবি’র মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া শুরু করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষকে কীভাবে সমবায়ের মাধ্যমে একত্রিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে তাদেরকে কীভাবে দারিদ্র্যসীমার থেকে বের করে আনবেন সেই পরিকল্পনাটাই জাতির পিতা নিয়েছিলেন।’ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মইনুদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের কল্যাণ ও দারিদ্র্য নিরসন এবং কৃষির উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মাননা স্মারক মতিয়া চৌধুরীর হাতে তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে একটি সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট এবং ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকা থেকে পিকেএসএফের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সেবামুখী সংগঠনসহ ১৩০টি সংস্থার মোট ১৯০টিরও বেশি স্টল মেলায় স্থান পেয়েছে। মেলায় রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কৃষি, খাদ্য এবং প্রচলিত পণ্য। এ ছাড়া সাত দিনে পাঁচটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে মেলায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর