শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪০

ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত

ওলী আহম্মেদ, শেকৃবি

ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত

প্রথম দশকের ক্রেতা-দর্শনার্থীর খরা কাটিয়ে শেষ দশকে জনসমাগম, কেনাবেচা- সবমিলিয়ে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসর। বিশেষত গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণসহ এর আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছিল জনস্রোতে।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এদিন সকাল থেকে ক্রমেই বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। দুপুর গড়িয়ে বিকাল ও সন্ধ্যায় প্রাঙ্গণজুড়ে জনস্রোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ক্রেতা-দর্শনার্থীর এমন উপচেপড়া ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নের কর্মীরা। অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে বিক্রয়কর্মীরা বিশ্রাম নেওয়ারও সময় পাননি। তবে ক্রেতা-দর্শনার্থীর এমন সরব উপস্থিতি মুখে হাসি ফুটিয়েছে মেলায় অংশ নেওয়া স্টল মালিকদের। তবে এমন জনস্রোতে কিছুটা বিপদে পড়েন সপরিবারে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীর একটি অংশ। কিছুক্ষণ পরপরই মেলার তথ্যকেন্দ্রের মাইক থেকে ভেসে আসছিল ভিড়ের মধ্যে কারও কারও হারিয়ে যাওয়ার খবর। জনসমাগমের এমন ঢলে লম্বা ভিড় ঠেলে ক্রেতাদের যেতে হয় কাক্সিক্ষত স্টলে। নারীদের প্রসাধনীসামগ্রী, শিশুদের খেলনা, প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, ক্রোকারিজ পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও পোশাকের দোকানগুলোতে ঢল নামে ক্রেতা-দর্শনার্থীর।

বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে থাই, তুর্কি, ভারতীয় প্যাভিলিয়নগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশীয় ব্র্যান্ডের বিভিন্ন কমপ্লিট ব্লেজারের স্টলগুলোর ছাড়ের প্রতিযোগিতায় ক্রেতারাও যেন প্রতিযোগী রূপে হাজির হন। তুর্কি প্যাভিলিয়নের তুর্কি লাইটিংয়ে বেশ ঝোঁক ছিল ক্রেতাদের। কাশ্মীরি শাল চাদরের বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোও ছিল জমজমাট। মেলায় অংশ নেওয়া বেকারি কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন স্টলের মধ্যে কোকোলা, বনফুল, প্রাণ ও নেসটেলের স্টলে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। বনফুল থেকে ১০০ টাকায় একটি কিনলে আরেকটি ফ্রিতে লেক্সাস বিস্কুট কিনতে রীতিমতো লাইনে দাঁড়িয়েছেন ক্রেতাদের একটি অংশ। বাড্ডা থেকে সপরিবারে এসেছিলেন শামসুল হক। বললেন, ‘একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করি, তাই শুক্রবার ছাড়া ছুটি পাই না। মেলার প্রথমদিকেই সবাইকে নিয়ে আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সময়-সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ইচ্ছা আছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার। এর মাঝে ঘুরতে ঘুরতে পছন্দের কিছু চোখে পড়লে সবার জন্য কিছু কেনাকাটাও করব’। টিকিট কাউন্টারে রাসেল নামের একজন জানালেন, ‘সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ বেশি, তবে জুমার নামাজের পরপরই তা ক্রমশ বাড়ছেই।’ ব্লেজার স্টল আশিক ফ্যাশনের স্টলকর্মী ফরহাদ হোসেন জানান, ‘মেলার প্রথমদিকে কিছুটা মন্দা থাকলেও বিগত কয়েকদিনসহ আজকের বেচাবিক্রিতে তা পুষিয়ে যাবে। আশা করছি মেলার বাকি কয়দিন এভাবেই ক্রেতাদের সাড়া পাওয়া যাবে।’


আপনার মন্তব্য