শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:১৭

কভিডের ধাক্কা গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে

বরাদ্দ কমে গেছে কোথাও কোথাও বন্ধ

নিজামুল হক বিপুল

কভিড-১৯-এর কারণে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বন্যার কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক কাজ আটকে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় কাজ হলেও বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ কাটছাঁট করছে আর অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০টিরও বেশি প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

অবশ্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ হয়নি। আমরা আশা করি এই সংকট কেটে যাবে। আমরা কভিড-১৯ পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছি। এর মধ্যে ভ্যাকসিনও এসে যাবে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মধ্য অগ্রাধিকার ও স্বল্প অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রকল্প নিয়ে থাকি। কভিডের কারণে যদি রাজস্ব আয় কমে যায় তাহলে তো প্রকল্পে কিছুটা কাটছাঁট করতে হবে। কিছুটা সমস্যা তো হয়েছে। তারপরও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যে কথা হয়েছে, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোয় তারা বরাদ্দ দিচ্ছে। তিনি আশা করেন, সমস্যা কেটে গেলে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রতি বছর দেশের উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে দুই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প নেয়। এসব প্রকল্পের জন্য প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থ বছরেও সারা দেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য মোট ১২৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তিন ক্যাটাগরিতে নেওয়া এসব প্রকল্পের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৪৮টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৪৮টি এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এ জন্য চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪৮ প্রকল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৪৮টি প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা ও ‘সি’ ক্যাটাগরির ৩১টি প্রকল্পের জন্য চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ বরাদ্দ হয় সাধারণত চার মাস অন্তর অন্তর প্রতি কোয়ার্টারে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা করে। কিন্তু চলতি কোয়ার্টারে এসে সেই অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে চলতি কোয়ার্টারে এসে সেগুলোতে অর্থ বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অপরদিকে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চলতি কোয়ার্টারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও কম। এই বরাদ্দকৃত অর্থ ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অল্প অল্প করে ভাগ করে দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কাজ চালানো হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে আনা ও কোনো কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশেও আঘাত হানে। সংক্রমণরোধে সরকার প্রায় তিন মাস সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা লাগে। করোনার সঙ্গে যুক্ত হয় দেশের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় বন্যা। বন্যার কারণেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই যথা সময়ে প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক জায়গায় কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। সূত্র জানায়, করোনার কারণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলো কাটছাঁট করতে শুরু করে। যার প্রভাব পড়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের এসব উন্নয়ন প্রকল্পেও। ফলে ‘সি’ ক্যাটাগরির ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অর্থের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে এসব প্রকল্পের কাজও শেষ হবে না বলে জানা গেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর