শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৯

দুদকের পূর্ব-পশ্চিম ভুলে ১৫ বছর দণ্ড নিরপরাধ ব্যক্তির

আরাফাত মুন্না

দুদকের পূর্ব-পশ্চিম ভুলে ১৫ বছর দণ্ড নিরপরাধ ব্যক্তির
কামরুল ইসলাম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলার এফআইআরে নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম রাজারামপুরের পরিবর্তে পূর্ব রাজারামপুর লিখায় ১৫ বছর কারাদন্ড হয়েছে নিরপরাধ এক ব্যক্তির। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কামরুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি উচ্চ আদালতে শরণাপন্ন হয়েছেন। সোমবার হাই কোর্টের নির্দেশে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনেও স্বীকার করা হয়েছে, মামলার এফআইআর থেকে শুরু করে তদন্ত, সব ক্ষেত্রেই ভুল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি প্রকাশ পায়। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন রেখেছে। আদালতে রিটের পক্ষে  আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট বিজয়া বড়ুয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসএসসির নম্বরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ২০০৩ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো একটা মামলা করে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসএসসির নম্বরপত্র জালিয়াতি করে এইচএসসিতে ভর্তিরও অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলার নথিপত্রেই বদলে যায় ঠিকানা। নোয়াখালীর সদর উপজেলার পশ্চিম রাজারামপুরের পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তা লিখেন পূর্ব রাজারামপুর। এরপর ১০ বছর ধরে এ মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করেই অভিযোগপত্র দেয় দুদক। আইনজীবী জানান, মামলার শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালে বিচারিক আদালত তিনটি ধারণায় পাঁচ বছর করে মোট ১৫ বছর কারাদন্ড দেয় কামরুল ইসলামকে। সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ডও দেওয়া হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়ায় রায়ের পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত বা বিচারের কোনো পর্যায়েই আমি কিছু জানতে পারিনি। আমার জন্ম ১৯৯০ সালে, আর নম্বরপত্র জালিয়াতি হয়েছে ১৯৯৮ সালে।’ বর্তমানে নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সহকারী হিসেবে কর্মরত পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার চাকরির সুবাদে ১৯৯৪ সালের দিকে আমরা সপরিবারে পৈতৃক ঠিকানা ছেড়ে লক্ষ্মীপুরে চলে যাই। ২০০৮ সালে আদালতের সহকারী হিসেবে চাকরি পাই। ২০১৯ সালে ২৯ জানুয়ারি নোয়াখালীতে বদলি হয়ে আসি।’ কামরুল বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরে থাকার সময় নোয়াখালীর পূর্ব রাজারামপুরের ঠিকানায় দু-একবার পুলিশ যাওয়ার খবর পেলেও সেটিকে আমরা গুরুত্ব দিইনি। তবে করোনা সংক্রমণের আগে গত বছরের শুরুতে পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যায়। তখনই থানায় খোঁজ নিয়ে আদালতের সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি জানতে পারি।’ ভুক্তভোগী কামরুল বলেন, ‘যে কামরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার জন্ম ১৯৭৭ সালে। ঘটনার পর তিনি বিদেশে চলে গেলেও বছর দুয়েক আগে পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামের নিজ ঠিকানায় ফিরেছেন। এখন তিনি সেখানেই আছেন।’ কামরুল ইসলামের আইনজীবী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গত বছর আমাদের কাছে এলে আমরা হাই কোর্টে রিট দায়ের করি। রিটে পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার এবং হয়রানি যাতে না করা হয় তার নির্দেশনা চাই। আদালত রিটের শুনানি নিয়ে গত বছর ৫ নভেম্বর রুল জারি করেন এবং দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের পক্ষে আইনজীবী আদালতের কাছে তদন্তে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এফআইআর থেকে তদন্ত, সব ক্ষেত্রেই তাদের ভুল হয়েছে বলে তারা আদালতকে জানান।’ এই আইনজীবী জানান, দুদক বলছে যেহেতু তারা সরল বিশ্বাসে করেছে এ জন্য আদালতের কাছে তারা ক্ষমা চান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি, এই কামরুল ইসলাম সেই কামরুল ইসলাম নন।’ এ ঘটনাটি আরেকটি জাহালম কান্ড কি না, এমন প্রশ্নে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘তা হবে কেন, এই কামরুল তো আর জেলে ছিল না। বিচারের কোনো পর্যায়ই তিনি ফেস করেননি। সরল বিশ্বাসে চলা তদন্তে ভুল হয়েছে। আমরা হাই কোর্টে ক্ষমা চেয়েছি।’


আপনার মন্তব্য