শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩০

একটি ছবিই খুলে দেয় খুনের জট

মির্জা মেহেদী তমাল

একটি ছবিই খুলে দেয় খুনের জট

২০১৪ সালের ঘটনা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় মো. শহীদুল্লাহ নামের এক পোশাক কর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শহীদুল্লাহকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশের সন্দেহ। এই ঘটনায় করা মামলায় থানা-পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পেরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

আদালত তা গ্রহণ না করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যার রহস্য উদ্?ঘাটন করে। একটি ছবি ও ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে পুলিশ গ্রেফতার করে খুনিকে। উদঘাটন হয় খুনের রহস্য। পুলিশ জানতে পারে এক নারীর সঙ্গে থাকা ছবি ইন্টারনেটে ছড়ানোর হুমকি দিয়ে ব্লাকমেল করে খুন করা হয় শহীদুল্লাহকে। প্রীতি বণিক নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। প্রীতি বণিক চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জয়ন্তী রানি রায়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক ওমর ফারুক বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে পিবিআই মামলাটি তদন্ত শুরু করে। একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে প্রীতি বণিকের  যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। প্রীতি বণিককে আটকের পর তিনি এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি স্বীকার করেন, পোশাককর্মী শহীদুল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার পরিচয় হয়।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। শহীদুল্লাহ তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করতে থাকেন। তাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আরও টাকা দাবি করলে প্রীতি তার ভাইয়ের সঙ্গে পরিকল্পনা করে শহীদুল্লাহকে তাদের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায় নিয়ে যান। ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে সেখানে একটি কবরস্থানের পাশে তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেন। নিহত শহীদুল্লাহর বাড়ি খুলনায়। তিনি টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

এই বিভাগের আরও খবর