শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:২১

রাতভর বখাটেদের হয়রানির শিকার ইবির চার ছাত্রী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাতভর বখাটেদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রী। ভুক্তভোগী ওই চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। গত বুধবার রাতে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে।

মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দুই দফায় ওই ছাত্রীদের জানালার সামনে অশ্লীল কথাবার্তা ও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা। পরে আতঙ্কিত ছাত্রীরা তাদের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাধ্যমে পুলিশকে জানালে রাত ৪টার দিকে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বখাটেরা পালিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর পর গত বৃহস্পতিবার সকালেই ওই ভাড়া মেস ছেড়ে  দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন তারা। পরে নিজেদের মালামাল আবাসিক হলে রেখে প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় বাড়ি ফিরে গেছেন চার ছাত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাত গভীর হলেই এ এলাকায় মাদকাসক্তদের আড্ডা জমে ওঠে। এর আগেও ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ¯œাতকোত্তরের এক ছাত্রী বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গত দুই ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের স্নাতক সম্মান চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। ফলে তারা শেখপাড়া এলাকায় এক স্কুল শিক্ষিকার বাসায় ভাড়া থাকতে শুরু করেন। সেখানে একই বিভাগের চারজন ছাত্রী বসবাস করছিলেন।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের রুমের পাশে আমরা বেশ কিছুদিন হাঁটার শব্দ পেয়েছি কিন্তু গুরুত্ব দেইনি। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কয়েকজন আমাদের শরীরের বর্ণনা দিয়ে খুব আজেবাজে ভাষায় কথা বলছিল। আমরা স্যার, সহপাঠীদের বিষয়টি জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ দিই। পরে রাত ৩টার দিকে আবার রুমের পাশে পায়ের শব্দ পাই। তখন আতঙ্কিত হয়ে যাই। পরে স্যারদের উপস্থিতিতে সকালে বাসা ছেড়ে দিয়ে জিনিসপত্র হলে রেখে এসেছি।’

ভুক্তভোগী অপর এক ছাত্রী বলেন, ‘হল না খুলে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসের পাশে আমাদের অনেকেই ভাড়া বাসা বা মেসে অবস্থান করছে। আমরা অনেক অনিরাপদ অবস্থায় আছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।’

এদিকে, এ ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইবিয়ানরা। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যাতে এ ঘটনার পৃনরাবৃত্তি আর না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতেই সহকারী প্রক্টর ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সকালে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মেসে গিয়েছিলেন। ছাত্রীরা বাড়ি যেতে চাওয়ায় মালামাল হলে রেখে তাদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা মেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের নাম জানার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা ক্যাম্পাসের বাইরে, তাই কারও নাম জানা গেলে আমরা সে অনুযায়ী অভিযোগ দাখিল করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি, যেন বিষয়টি নিয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি।

এই বিভাগের আরও খবর