শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২১ ২৩:৫৯

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় গাইডলাইন আসছে

নয় দিনের মধ্যে করোনায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ হার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় গাইডলাইন আসছে
Google News

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) ঠেকাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যেন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় সে জন্য সতর্ক নজর রাখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় এ রোগ সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা কেমন হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হবে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন। গতকাল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও এ রোগটিকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি, জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কমিটি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি একটি সুপারিশ দেবে। অন্যান্য সবার সুপারিশ ও পরামর্শে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন প্রণীত হবে।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, দেশে এ পর্যন্ত করোনার ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত নয়জন রোগী পাওয়া গেছে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ চলছে। ফলাফল পাওয়া গেলে এ সংখ্যাটি বেড়ে যাবে। করোনার ভারতীয় ধরনের সংক্রমণের ক্ষমতা অনেক বেশি। দেশে করোনা প্রতিরোধে যেসব প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে, তা মেনে চললেই এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতে একদিকে তান্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস অন্যদিকে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মিউকোরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মে মাসের প্রথমদিকে ভারতের চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সতর্ক করা শুরু করেন। ভারতে এখন পর্যন্ত যারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশ হয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বা কিছুদিন আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মূলত সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেকের

ইমিউনো সিস্টেম অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন লোকজনই নতুন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া এ রোগে আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন ডায়াবেটিসের রোগীরাও। গত কয়েক সপ্তাহে ভারতে কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে কয়েকশ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু করোনা রোগী সেরে ওঠার পর তাদের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস দেখা দিয়েছে। ফুসফুস সমস্যা কিংবা আইসিইউতে থাকা রোগীর ক্ষেত্রে ঘাতকের ভূমিকায় দেখা গেছে এই ছত্রাক।

নয় দিনের মধ্যে করোনায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ হার : ঈদের ছুটির পর থেকেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ হার আরও দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। গত এক দিনে ১৫ হাজার ২০৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৫৪ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত নয় দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১২ হাজার ৩৭৬ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৯৯ জন। এদিকে ঈদের পর গত ১৫ ও ১৬ মে সংক্রমণ কমার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৬২ দিন পর ১৫ মে ৭ শতাংশের নিচে নেমেছিল সংক্রমণ হার। ১৭ মে থেকে আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তা ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতফেরত অনেকের দেহে ভয়াবহ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। সীমান্তের কোনো কোনো জেলায় সংক্রমণ হার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এতে ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন ছিলেন পুরুষ ও ৮ জন নারী। হাসপাতালে ২৭ জন ও বাড়িতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ১৪ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ১০ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ৩ জন চল্লিশোর্ধ্ব ও ১ জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১০ জন ঢাকায়, ৭ জন চট্টগ্রামে, ৩ জন বরিশালে, ৫ জন সিলেটে, ২ জন রংপুরে ও ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। গতকাল সারা দেশের কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় ২ হাজার ৫ জন ও আইসিইউ শয্যায় ৩০০ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে গত ১৬ মে সাধারণ শয্যায় ১ হাজার ৮৫৫ জন ও আইসিইউ শয্যায় ৩৭০ জন ভর্তি ছিলেন। সপ্তাহের ব্যবধানে আইসিইউতে রোগী কমেছে, বেড়েছে সাধারণ শয্যায়।

এই বিভাগের আরও খবর