শিরোনাম
বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

পাঁচ দাবিতে আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

পাঁচ দাবিতে আলটিমেটাম

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর কোনো শিক্ষক এখন ছাত্রহলের প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকতে চাইছেন না। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু হল ও ফজলুল হক হলের দুজন প্রভোস্ট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে অন্য পাঁচটি হলের প্রভোস্ট এবং সাত হলের সহকারী প্রভোস্টরাও পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন। কুয়েট জনসংযোগ ও তথ্য শাখার মুখপাত্র রবিউল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট প্রফেসর কল্যাণ কুমার হালদার ও ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান পদত্যাগপত্র ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর জমা দিয়েছেন। এতে ‘ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ওই পদত্যাগপত্রের বিষয়ে এখনো প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা যায়, কুয়েটের সাতটি ছাত্র হল পরিচালনা নিয়ে ছাত্রলীগের  কোন্দল চরমে। হলের সিট বরাদ্দ, ডাইনিং ম্যানেজারসহ বিভিন্ন বিষয় থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়। আর এসব নিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয় হল প্রভোস্টদের। বঙ্গবন্ধু হল প্রভোস্ট প্রফেসর কল্যাণ কুমার হালদার জানান, ড. সেলিমের মৃত্যুর পর থেকে মানিসকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। শিক্ষকদের সম্মানের জায়গাটা নেই। ফলে প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছেন হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা। রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মামুন জামান বলেন, দাবি না মানলে সব হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা পদত্যাগ করবেন। জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর দুপুর ৩টার দিকে কুয়েটের ইইই শাখার প্রফেসর ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সেলিম হোসেন কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় কুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদকসহ নয়জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সেলিম হোসেনের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়- অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর খবরে সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনে শাহ আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অপমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি ছাত্র সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কিছু ছাত্র শাহ আমানত হলে ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচন কেন্দ্র তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালান। তিনি বাসায় ফিরে এ ঘটনা তাঁর পরিবারকে জানান। শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধই একজন শিক্ষকের নৈতিক শক্তির ভিত্তি। কুয়েটের শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন ছাত্র নামধারীদের অনৈতিক চাপে মাথা নত না করে শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন। আমরা ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কুয়েট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত কয়েকজনকে সাময়িক বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি গঠনসহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তবে কমিটি যেন প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করে এবং কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের ছাত্র নামধারীমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ করতেই হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর