বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

বদলে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি

সিটি নির্বাচনে ওলটপালট পরিস্থিতি, ঢেলে সাজানো হচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জেলা কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘ওলটপালট’ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি। দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে জেলা কমিটির আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকার ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব এ টি এম কামালকে। এদিকে দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে সঠিকভাবে কাজ না করায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে। ইতোমধ্যে কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সিটি নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির কোন নেতা নির্বাচনে কী ভূমিকা রেখেছেন, সে বিষয়ে তথ্য জোগাড় করেছেন। জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতার আচরণে ক্ষুব্ধও হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁরা নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব তৈরির জন্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী সভায় প্রস্তাব তুলবেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচন-উত্তর পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করা হচ্ছে দুই দলের স্থানীয় রাজনীতিতে। ঢেলে সাজানো হচ্ছে জেলা, মহানগর, উপজেলা/থানা, ওয়ার্ড বিএনপিসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের কমিটি। আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। তার আগেই সব ইউনিট কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসিরউদ্দিনকে। তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কারের পর মঙ্গলবার রাতেই নাসিরউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকে বহিষ্কারের পরপরই এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টুকে। মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। হেফাজতের মামলায় কারাগারে আছেন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি।

এসব বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এতে দল ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতি যথেষ্ট সক্রিয় হতে যাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই তার ফলাফল দৃশ্যমান হবে ইনশা আল্লাহ। তিনি জানান, ১০টি উপজেলা/থানা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। সেগুলো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সদর ও বন্দর থানা বিএনপির কমিটি গঠিত হচ্ছে সহসাই। মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে ১৬টি কমিটি গঠিত হয়েছে। বাকিগুলোও কিছু দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।   

নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী থাকলে তাদের দল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বহিষ্কার হন এ টি এম কামাল। দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি একজন সমর্থক ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে যাব। আমি দলের কর্মী-সমর্থক হিসেবে কাজ করে যাব। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আমাকে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দিল। আর কুমিল্লার সাক্কুকে নির্বাচন করতে না করল। তার পরও সে করল। আর এখন দল নির্বাচনে যাবে না, তারপরও আমাকে বহিষ্কার করা হলো। এটাই যদি দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি হয়ে থাকে, তাহলে এটাই মেনে নিতে হবে। ‘দল আমার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি সে ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করব না। কারণ, আমি তো দল পরিবর্তন করব না।’

আওয়ামী লীগের সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে। এর অংশ হিসেবে দলের জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগও পুনর্গঠন করা হবে। দলের আগামী কার্যনির্বাহী সংসদে উত্থাপন করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি ভেঙে দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। ডা. আইভীর নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে এ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটি বড় অংশ নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি বলে জানিয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, নেতা-কর্মীরা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেননি। নির্বাচনী কাজে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি। ভোটের দিন সকাল ১০টায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু নারায়ণগঞ্জে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের পাননি।

নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সংগঠন সাজাবে কৃষক লীগও। সংগঠনটির সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে দুই মাস আগেই কৃষক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। শিগগিরই আমরা নারায়ণগঞ্জে কৃষক লীগের কমিটি পুনর্গঠন করব। 

সিটি করপোরেশনের ভোটের আগে ভেঙে দেওয়া হয় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এই কমিটির প্রধান নেতারা আইভীবিরোধী হিসেবে পরিচিত। যুবলীগ নেতারা নির্বাচনের শুরু থেকেই মেয়র প্রার্থী আইভীর পক্ষে মাঠে থাকায় তাদের কমিটি বহাল থাকছে বলে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর