বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা
অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন

৫ কোটি টাকা হাতিয়ে হলেন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় পাঠানোর কথা বলে মেরিন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে বেকার যুবকদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে আসছিলেন মির্জা মুকুল। আড়াই বছর আগে ওমান-ফেরত মুকুল প্রায় ৩০০ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে মুকুলকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ সময় তার কাছ থেকে ২৬টি পাসপোর্ট, তিনটি স্বয়ংক্রিয় সিলমোহর, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ট্রেনিং পাসের কার্ড ৩৫টি, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ট্রেনিংয়ের ভুয়া যোগদানপত্র, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর লেখা ও ছবি সংবলিত পাসপোর্টের আবেদন ফরম ২৫টি, মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, শ্রমিক হিসেবে ওমানে ৯ বছর কর্মরত ছিলেন মুকুল। ওমান থেকে ফিরে প্রতারণা শুরু করেন তিনি। তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিলেন। মুকুল দীর্ঘদিন ওমানের একটি পোর্টে কাজ করেছেন। ফলে তার কাজও পোর্ট-সংক্রান্ত ছিল। তিনি বিভিন্ন কৌশলে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যুক্ত হন। অস্ট্রেলিয়ায় খ্রিস্টানদের ব্যাপক চাহিদার কথা বলে ভুক্তভোগীদের প্রলোভন দেখাতেন। তাদের মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং দিতেন। পরে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ৬০ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে নেন। কানাডায় পাঠানোর কথা বলে মুকুল ১২ জনের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। প্রতারক মুকুল ভুক্তভোগীদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে মেরিন একাডেমির ট্রেনিংয়ের জন্য ছবি নকল করে আইডি সরবরাহ করতেন।

তিনি ৬০ জন ভুক্তভোগীকে জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর বিদেশি ডেলিগেট আসবে। প্রথমে চট্টগ্রাম, পরে ডেলিগেটের সঙ্গে কক্সবাজারে দেখা করানোর জন্য ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। ডেলিগেটরা চট্টগ্রাম গেছেন এবং সবাইকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। চট্টগ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগীরা মুকুলকে মোবাইল ফোনে আর পাননি। পরে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। এর আগেও একাধিক লোকের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন মুকুল। অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম বলেন, আসামি ও পলাতক অন্যান্য আসামি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং করিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পোর্টে চাকরির নকল নিয়োগপত্র সরবরাহ করতেন। দুই থেকে আড়াই বছর ধরে মুকুল প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি সহজ-সরল প্রায় ৩০০ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ চক্রের সঙ্গে আরও ২-৩ জন জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

সর্বশেষ খবর