শিরোনাম
শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

অপকর্ম আড়াল করতে হত্যা সহকর্মীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজের অপকর্ম আড়াল করতে জুয়েল মিয়াকে হত্যা করে তারই সহকর্মী আক্তার হোসেন। পেশায় তারা দুজনই নিরাপত্তাকর্মী। কাজ করতেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সিদীপ নামে একটি এনজিওতে। অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী আক্তারকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানায় পুলিশ। এর আগে বুধবার রাতে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকার একটি কারখানা থেকে অভিযুক্ত আক্তারকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। গতকাল আক্তারকে আদালতে পাঠানো হলে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল নিজ কার্যালয়ে ঘটনাটি বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে জানতে পারি মোহাম্মদপুরের সিদীপ এনজিওর পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভিতর একজন সিকিউরিটি গার্ডের লাশ পড়ে আছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং জানতে পারে নিহত ব্যক্তির নাম জুয়েল। ওই দিনই জুয়েলের মা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

ভবনে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে গ্রেফতার আক্তার কম্বল মুড়িয়ে চেয়ারে শুয়ে থাকা জুয়েলকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। এতে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও আক্তার তাকে নৃশংসভাবে আঘাত করতে থাকে। লাঠির আঘাতে জুয়েলের মাথা, চোখ, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর যখম হয়। আঘাতের কারণে জুয়েলের মৃত্যু হলে আক্তার লাশ গোপন করার জন্য তার হাত বেঁধে, কম্বল মুড়িয়ে পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভিতর নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আক্তার। পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল বলেন, গ্রেফতার আক্তার দেড় বছর ধরে সিদীপ এনজিওতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। আর জুয়েল ১ জানুয়ারি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে যোগ দেয়। জুয়েল অফিসের বাইরে যেতে চাইলে প্রায় সময়ই আক্তার বাধা দিত। এতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। আক্তার আগে থেকে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত। জুয়েল তা মেনে নিতে পারেনি। এ ছাড়া জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আক্তার তার এক বান্ধবীকে রাতে অফিসে নিয়ে আসে। জুয়েল তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। বিষয়টি সে কর্তৃপক্ষকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার দিন আক্তার লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জুয়েলকে হত্যা করে।

সর্বশেষ খবর