শিরোনাম
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০০ টা

বেশি আয়ে বেশি কর

শীর্ষ করহার ফিরছে ৩০ শতাংশে

শাহেদ আলী ইরশাদ

যারা বেশি আয় করেন তাদের কাছ থেকে আবারও ৩০ শতাংশ হারে কর আদায় করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মহামারি করোনার সময় ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। ৩০ শতাংশ হারে কর আদায় করলে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর বিভাগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য শীর্ষ প্রান্তিক আয়কর ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিগত কর হার ছিল সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ। মহামারি করোনা শুরু হলে মানুষের আয় কমে যায়, তখন কিছুটা স্বস্তি দিতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সর্বোচ্চ করহার ৫ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। যেটা চলতি অর্থবছরেও বহাল রয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের কর ৫ শতাংশ, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ে ১৫ শতাংশ, ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ে ২০ শতাংশ এবং ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮৯ হাজার ২৯০ জন ব্যক্তিগত করদাতার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকার ওপরে। তারা ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার কর পরিশোধ করেছেন। এর আগে, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দেশে আয় বৈষম্য কমাতে একটি আর্থিক পরিমাপে পরবর্তী বাজেটে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছিল।

আয় ও বৈষম্য পরিমাপের (জিনি সহগ) হিসাবে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে আয় ও সম্পদ বৈষম্য ২০২২ সালে রেকর্ড-উচ্চ ০.৪৯৯ ছুঁয়েছে। ২০১৬ সালেও আয় বৈষম্য ছিল ০.৪৮৩। যা নির্দেশ করে যে আয় বৈষম্য ধীরে ধীরে বছর ধরে বেড়েছে। সবার আয় সমান হলে জিনি সূচক হবে শূন্য। এর অর্থ হলো চরম সাম্য অবস্থা বিরাজ করছে। এটি অবশ্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর সব আয় একজনের হাতে গেলে সূচকটি হবে ১। এটি আবার চরম অসাম্য অবস্থা। এই দুই সীমার মধ্যে সূচক যত বাড়ে, অসাম্য তত বেশি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা। ভারতে গত মার্চ মাসে খুচরা মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে আসে, যা বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ধারীর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ৪৩ লাখের মতো। আয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রত্যক্ষ কর অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দেশে আয় বৈষম্য কমাতে পরবর্তী বাজেটে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছিল।

 

 

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর