শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ জুন, ২০২১ ১৭:১২
আপডেট : ৮ জুন, ২০২১ ১৭:১৮
প্রিন্ট করুন printer

শর্টকাট বলতে কিছু নেই: ঐশী

অনলাইন ডেস্ক

শর্টকাট বলতে কিছু নেই: ঐশী
জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী
Google News

সম্প্রতি প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন মিস বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। এ বিষয় ও অন্যান্য ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

১. বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন...

ঐশী: আমার একেবারে সাম্প্রতিক কাজ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর সাথে। যেহেতু পরিবারের সাথে থাকি, তাই কোভিড-১৯ এর কারণে আপাতত সব ধরনের শুটিংয়ের কাজ বন্ধ রেখেছি। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর এই বিশেষ উদ্যোগটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এতে অংশ নিয়েছি এবং এর সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।  

২. ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে?

ঐশী: আমি যখন প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার অফারটা পেলাম তখন স্টাডি করে জানতে পারলাম ব্র্যান্ডের প্রপোজিশনে ওরা মেয়েদেরকে ক্ষমতায়নে কাজ করে, মেয়েদেরকে পারফেক্ট ফিউচারের জন্য তৈরি করতে কাজ করে। ওদের কিছু কাজও অনলাইনে দেখলাম। আমি মিস বাংলাদেশ হওয়ার সময়ও আপনাদের বলেছিলাম আমি সবসময়ই মেয়েদের উন্নতির জন্য কাজ করতে চাই। তাই প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার জন্য আমাকে আর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।

৩. এমন একটি ক্যাম্পেইন করার ভাবনা মাথায় এলো কীভাবে?

ঐশী: ছোটবেলা থেকে আমার সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল, তবে ওরকম বড় কোন প্ল্যাটফর্ম পাইনি। সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের নিখুঁত ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা সহায়তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ-এর অন্যতম হেয়ার অয়েল ব্র্যান্ড ‘প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল’। আমাল ফাউন্ডেশনের শিক্ষা তহবিলে অনুদান প্রদান করার মাধ্যমে এসকল মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং পারফেক্ট ফিউচারের প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য। উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমাল ফাউন্ডেশনকে ৩ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পেইনের জন্য প্রচারিত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করলে প্রতি শেয়ারে মিলবে ২ টাকা করে অনুদান, যা সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রদান করা হবে।

আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, আমি যখন মিস ওয়ার্ল্ড এ গিয়েছি এই কথা অনেকবার উল্লেখ করেছি এবং ওখান থেকে আসার পরে এই নিয়ে আমি ছোট পরিসরে কাজও করছি। আর এই সময়ে প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল আমাকে তাদের নিয়ে কাজ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিল। কাজেই এই প্রজেক্ট এর সাথে যুক্ত হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। তাছাড়া স্ক্রিপ্টটা ও অসাধারণ ছিল যার কারণে না করার কোনো সুযোগ ছিল না।

৪. মিস বাংলাদেশ-এর কাছে মিস পারফেক্ট এর সংজ্ঞা কী?

ঐশী: মিস পারফেক্ট হতে হলে জীবনে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। জীবনে যাই করা হোক না কেন, শিক্ষার কোন বিকল্প নেই‌। কেউ ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী কিংবা বিজ্ঞানী হোক না কেন, সব কিছুর মূলে রয়েছে শিক্ষা। জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সাথে নিতে হবে পারফেক্ট ফিউচার গড়ার প্রস্তুতি। শর্টকাট বলতে কিছু নেই। নিয়মিত সঠিক প্রস্তুতি যে কাউকে সে হোক ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী ঠিক পারফেক্ট করে গড়ে তুলতে পারে।

৫. দেশের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে আর কি কি করা যেতে পারে?

ঐশী: সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় 'সকলের জন্য শিক্ষা' কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।

প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল-এর মত সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ যদি এগিয়ে আসে তাহলে আমরা খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

৬. সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?

ঐশী: হ্যাঁ, আগেই যেমনটা বলেছি আমার ছোটবেলা থেকেই সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করার একটি সুপ্ত ইচ্ছা ছিল। যেটা আমি মিস বাংলাদেশের মঞ্চেও বলেছিলাম। আমি সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য কাজ করে যেতে চাই। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড বেলীফুল যদি এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে আমিও তাদের সাথে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।

তাছাড়া ভবিষ্যতে আমার একটি ফাউন্ডেশন করার ইচ্ছা আছে, যে ফাউন্ডেশনটির কাজ হবে সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করা। তবে ফাউন্ডেশন করার মানে এই নয় যে আমি শুধু নিজের ফাউন্ডেশন এর জন্যই কাজ করব। বরং যে কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নিলে আমার সাথে থাকার সুযোগ থাকলে তা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের হবে। এক কথায় যেভাবেই হোক আমি সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন