মরক্কোর বুলেমেন এলাকায় পাওয়া গেছে এক বিরল ডাইনোসরের জীবাশ্ম। এটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরোনো আঙ্কাইলোসর (Ankylosaur—এক ধরনের উদ্ভিদভোজী ও ভারী বর্মযুক্ত ডাইনোসর) বলে চিহ্নিত হয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই ডাইনোসরটির বয়স প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন বছর।
নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে স্পাইকোমেলাস আফের (Spicomellus afer)। এর দেহ ছিল ট্যাঙ্কের মতো ভারী। পুরো শরীরজুড়ে বর্মের মতো মোটা আবরণ এবং গলাসহ চারপাশে গলফ ক্লাবের সমান লম্বা কাঁটা। এছাড়া এর পাঁজর থেকে ছোট ছোট কাঁটা বেরিয়ে থাকত এবং লেজের শেষ অংশে ছিল গদার মতো অস্ত্র, যা শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বীদের আঘাত করার কাজে ব্যবহার হতো।
গবেষকদের মতে, এই ডাইনোসরের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪ মিটার এবং ওজন প্রায় ২ টন। জীবাশ্মের লেজের কিছু অংশ অনুপস্থিত হলেও কশেরুকার গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে লেজের অস্ত্র আগের ধারণার চেয়ে অন্তত ৩০ মিলিয়ন বছর আগেই এ ধরনের প্রাণীর শরীরে বিকশিত হয়েছিল।
আঙ্কাইলোসর পরিবার প্রায় ১০ কোটি বছর টিকে ছিল। এরা ধীরগতির হলেও শক্তিশালী বর্মের কারণে দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্পাইকোমেলাস আফেরের বিশাল কাঁটা কেবল প্রতিরক্ষার জন্য নয়, বরং আধিপত্য প্রদর্শন বা সঙ্গী আকর্ষণের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে জীবাশ্ম আবিষ্কারে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। মরক্কোতে অবৈধভাবে জীবাশ্ম সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে। গবেষকরা জানান, এই ডাইনোসরের কয়েকটি হাড় ইতোমধ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ কঙ্কাল সংগ্রহ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের বিবর্তন গবেষণায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল