শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:১৫
প্রিন্ট করুন printer

লালমনিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
প্রতীকী ছবি

লালমনিরহাটে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে চলছে চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীন ভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একটি ভোট কেন্দ্রের ইভিএমের চিপ খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন ১০ জন।

কয়েকটি কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সাপটনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সৈয়দ সুফি তাহেরুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিককে মারধর করেন দুর্বৃত্তরা। কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টার দিকে বত্রিশ হাজারী বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে ইভিএম মেশিন ভাংচুর করে চিপসেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। ওইসময় আব্দুল জলিল ওরফে মেজর নামের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে গুরতর আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রেলওয়ে চিলড্রেন স্কুলে ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে এনে আশরাফুল নামের একজন ভোটার বলেন, কেন্দ্রের ভিতরে জোর পূর্বক একজন তার ভোটটি একটি বিশেষ প্রতীকে দিয়ে দিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের লোকজন জোর করে ভোট দিচ্ছেন। আমার প্রতীকের লোকজনকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সবকটি কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম স্বপন, ধানের শীষের প্রার্থী মোশররফ হোসেন রানা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ওয়াহিদুল হাসান সেনা অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা জোরপূর্বক ভোট দিচ্ছেন। বের করে দেওয়া হচ্ছে তাদের এজেন্টদেরকেও। শহরের গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এজেন্টকে বের করে দিয়ে পিটাতে থাকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন রানা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ওয়াহিদুল হাসান সেনা ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে না বলে দাবি করে বলেন, ভোট জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা।

যদিও সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা দাবি করে বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে।

এবারের লালমনিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মোফাজ্জল হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম স্বপন (নারিকেল গাছ), ধানের শীষের মোশারফ হোসেন রানা (সাবেক মেয়র), জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ওয়াহেদুল হাসান সেনা (সদ্য আওয়ামীলীগ হতে জাপাতে যোগদানকৃত) ও ইসলামি আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা)। এছাড়াও তিনটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৫ জন ও ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের ৪৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর