Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৯ ১৯:১৩

বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোতে ৩১ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭টি। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭০টি। যার মধ্যে দেওয়ানি ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০টি ও ফৌজদারী ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৭০টি।

স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবারের বৈঠকে সরকারি দলের মহিলা এমপি হাবিবা রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

আইনমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২১ হাজার ৮১৩টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৪ হাজার ২৩টি; ফৌজদারী মামলা ৭ হাাজার ৬৫৫টি ও অন্যান্য (কনটেম্ট পিটিশন) মামলা ১৩৫। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি। এর মধ্যে দেওয়ানি ৯৬ হাজার ১১৪টি; ফৌজদারী ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৩টি ও অন্যান্য ৯৩ হাজাার ১০৭টি। 

এসময় মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

বিচারক ও জজ নিয়োগ চলছে : 
বেনজীর আহমদের (ঢাকা-২০) লিখিত প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ সারাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সংকট নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনকে গতিশীল করা হয়েছে যাতে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া যায়। এ লক্ষ্যে ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে ৬ জন ও হাইকোর্ট বিভাগে ২৮ জন বিচারপতি নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে মোট ৫৭১ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯৯ জন সহকারী জজ নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আরও ১০০ জন সহকারী জন নিয়োগের জন্য জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বরাবর চাহিদা পত্রও প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশে আরও ৪১টি ট্রাইব্যুনাল সৃজন করেছে। তাছাড়া ৭টি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সৃজন করা হয়েছে যার মাধ্যমে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর অধীনে দায়েরকৃত মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এই ট্রাইব্যুনালের জন্য ২৪০টি সহায়ক কর্মচারীর পদও সৃজন করা হয়েছে।

পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন মামলা ৫৯ হাজার ৮৬০টি :
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, দেশের পারিবারিক আদালতে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫৯ হাজার ৮৬০টি। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিবারিক মামলা ঢাকা জেলায়, সংখ্যা ৫ হাজার ৫০৯। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে এ ধরনের কোনো মামলা নেই।

এটর্নি সার্ভিস গঠনে সরকার সক্রিয় : সরকারি দলের এ কে এম রহমতুল্লাহ (ঢাকা-১১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সরকারের স্বার্থ সংরক্ষণে আইনজীবীদের স্থায়ীভাবে মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে সরকারি কৌশলীদের মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে এটর্নি সার্ভিস গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। 

তিনি বলেন, এটর্নি সার্ভিস গঠনের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এটর্নি সার্ভিস গঠন করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি। 

সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, চাকরিচ্যুত হয়নি কেউ: 
নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নিবন্ধন অধিদফতরে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে, বিগত ১০ বছরে এ অপরাধে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। কারণ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চাকরি বহাল রাখা হয়েছে।

বার কাউন্সিলে বরাদ্দ ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা: 
বিএনপির এমপি মো. হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য